ওঙ্কার ডেস্ক : দিল্লি বিস্ফোরণে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কাশ্মীরি চিকিৎসক- আদিল আহমেদ রাথের, মুজাম্মিল শাকিল এবং উমর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১০জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে, ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের তিন সপ্তাহ আগে, শ্রীনগরের বেশ কয়েকটি জায়গায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। এরপর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। “হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদী বাস্তুতন্ত্র” নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এরা দেশের কোথায় কোথায় জাল ছড়িয়েছে তা নিয়ে জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দিল্লি বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে আদিল আহমেদ রাথের এবং হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে মুজাম্মিল শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, ফরিদাবাদের দুটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ২,৯০০ কেজি বোমা তৈরির উপকরণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে একই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ লাল কেল্লার কাছে একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি ছিল। এই ট্র্যাফিক সিগন্যালটি রয়েছে নেতাজি সুভাষ মার্গে। একদিকে লাল কেল্লা, অন্যদিকে চাঁদনী চক। হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি যানবাহনকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁরা একটি “বিশাল আগুনের গোলা” দেখতে পেয়েছেন। এই ঘটনার আধ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ১৫টি দমকলের ইঞ্জিন। দিল্লির মতো একটি হাই সিকিউরিটি এলাকায় এই ধরণের বিস্ফোরণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে রাজধানীর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এই ষড়যন্ত্রের পিছনে যাবতীয় হালহদিশ খুঁজতে কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়ে রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষীরা।
বিস্ফোরণের পর, পুলিশ HR26CE7674 নম্বরের i20 গাড়ির মালিককে খুঁজে বের করে। গাড়িটি জনৈক সালমানের নামে বলে জানা যায়। এরপর পুলিশ সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে। সে জানায়, এই মার্চ মাসে দেবেন্দ্র নামে একজনের কাছে গাড়িটি বিক্রি করেছিল। পরে দেখা যায় গাড়িটি বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়।দেবেন্দ্রর কাছ থেকে গাড়িটি যায় আমিরের কাছে। আমির সেই গাড়ি আবার তারিকের কাছে হস্তান্তর করে। তারিকের কাছ থেকে গাড়িটি ডাঃ উমর মোহাম্মদের কাছে আসে।
পোস্টার মামলায় ইতিমধ্যে আদিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী উমরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে সিসিটিভি ফুটেজে উমরের মুখের কিছু অংশ দেখা গেছে। গাড়ির চালকের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ এখন ডিএনএ পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমস্ত দিক তদন্ত করছে। রিপোর্ট অনুসারে, সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা জাতীয় তদন্ত সংস্থা এখন মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিতে পারে। এই বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
তদন্তকারীরা এখন তদন্ত করে দেখছে যে এটি উমরের আত্মঘাতী হামলা কিনা। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আদিল এবং মুজাম্মিলকে পাকড়াও করে ২,৯০০ কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং অ্যাসল্ট রাইফেল এবং পিস্তলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্তর পর উমর হতাশায় আত্মঘাতী হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা সেটা ক্ষতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
উমর, আদিল এবং মুজাম্মিল ডাক্তার। আদিল অনন্তনাগের সরকারি মেডিকেল কলেজে কাজ করতেন, তারপর সাহারানপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত হন। মুজাম্মিল গত তিন বছর ধরে আল ফালাহ স্কুল অফ মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। মুজাম্মিলের গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তার সহকর্মী, লখনউয়ের ডাঃ শাহীন শহীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখন, ডাঃ উমর মোহাম্মদ আত্মঘাতী হামলার পেছনে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সোমবার জানিয়েছে, “এই ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটি শিক্ষাদান, সমন্বয়, তহবিল চলাচল এবং সরবরাহের জন্য এনক্রিপ্ট করা চ্যানেল ব্যবহার করেছিল। “সামাজিক কাজকর্মের আড়ালে পেশাদার এবং একাডেমিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাদের মৌলবাদী করা, নেটওয়ার্কের কাজে যুক্ত করা এবং সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তৈরি করার কাজ করে আসছিল “হোয়াইট কলার” সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটি।পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহ, রসদ ব্যবস্থা, অস্ত্র/গোলাবারুদ এবং আইইডি তৈরির জন্য উপকরণ সংগ্রহের কাজে জড়িত বলে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
