ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির একটি বিশেষ সিবিআই আদালত জমির বিনিময়ে চাকরি মামলায় প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, তাঁদের ছেলে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব-সহ পরিবারের একাধিক সদস্য এবং আরও কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাল।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন যথেষ্ট তথ্য ও নথি রয়েছে, যার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। মামলার মূল অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতীয় রেলে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ওই জমিগুলি অত্যন্ত কম দামে বা দানপত্রের মাধ্যমে লালু পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নামে হস্তান্তর করা হয়।
সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, বিহারের বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের রেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন জমি প্রথমে আত্মীয় বা পরিচিতদের নামে এবং পরে লালু পরিবারের সদস্যদের হাতে চলে আসে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, যেখানে সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভ নিশ্চিত করা হয়েছিল।
আদালত জানিয়েছে, এই পর্যায়ে অভিযুক্তদের দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণ করা হচ্ছে না, তবে মামলার নথি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে prima facie একটি ফৌজদারি অপরাধের ইঙ্গিত স্পষ্ট। সেই কারণেই দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের ফলে এখন মামলার নিয়মিত বিচারপর্ব শুরু হবে এবং অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করার সুযোগ থাকবে।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এটি দীর্ঘদিনের অভিযোগের আইনি স্বীকৃতি, অন্যদিকে আরজেডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য প্রকাশ পাবে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে স্পষ্ট, জমির বিনিময়ে চাকরি সংক্রান্ত এই মামলায় লালু পরিবারের আইনি লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব বিহারের রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
