ওঙ্কার ডেস্ক : গঙ্গা ও তার সঙ্গে যুক্ত ভূ-চরিত্র ও পরিবেশ সংরক্ষণে কয়েক দশক ধরে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঙ্গা মিশন স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছে— “গঙ্গা যেমন ছিল, আমরা তেমনই গঙ্গা চাই।” দিল্লিতে অনুষ্ঠিত গঙ্গা মিশনের জাতীয় সম্মেলনে এই দাবি বিশেষভাবে সোচ্চার হলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সেমিনার হলে গঙ্গা মিশনের জাতীয় মহাসচিব প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কার নেতৃত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে গঙ্গা ও তার সঙ্গে যুক্ত বাস্তুতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক, আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল স্তরে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই অধিবেশনে ড. ভরত ঝুনঝুনওয়ালা, সুপ্রতিম কর্মকার, দীপ নারায়ণ এবং সুইজারল্যান্ড থেকে আগত শ্রীমতী রোজেরিও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, গঙ্গা সংরক্ষণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় গঙ্গার জলের বিশেষ গুণাবলি উল্লেখ করে এর ঔষধি ব্যবহারের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গঙ্গা সংক্রান্ত বিষয়গুলি জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার দাবিও জানানো হয়। তাঁদের মতে, উপকথা ও সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে গঙ্গার কাহিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
সম্মেলনের আইনগত অধিবেশনে প্রবীণ আইনজীবী পি. সারদা এবং অঙ্কুর সুদ তাঁদের বক্তব্য রাখেন। তাঁরা গঙ্গা মিশন ও অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার তথ্য তুলে ধরেন এবং গঙ্গা অ্যাক্ট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁরা বলেন, ১৯১৭ সালে গঙ্গামহাসভা ও তৎকালীন সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তির প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত।
তৃতীয় অধিবেশনে গঙ্গা সংরক্ষণে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। এই অধিবেশনে প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কা, নরেন্দ্র প্রসাদ পোখরিয়াল, এস. কে. গুপ্তা, মধু ভারত, নির্মল আগরওয়ালসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, গঙ্গা সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন এবং লক্ষ্য একটাই— “গঙ্গা যেমন ছিল, আমরা তেমনই গঙ্গা চাই।”
সম্মেলনে গঙ্গা সংরক্ষণ ও সচেতনতার জন্য তৃণমূল স্তরে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গঙ্গা মিশন আগামী দিনে লখনউ, বারাণসী এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে গঙ্গা দূষণ প্রতিরোধ অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে নদীপ্রেমী ও কর্মীরা একযোগে গঙ্গার সমর্থনে আওয়াজ তোলেন। পুরো অডিটোরিয়াম প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কার উচ্চারণে গলা মিলিয়ে ধ্বনি তোলেন “জয় গঙ্গে—জয় জয় গঙ্গে……”
