ওঙ্কার ডেস্ক: ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল ১৫ বছরের এক কিশোরী। এর ফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকে নির্যাতিতা। আইন অনুযায়ী ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট ওই নির্যাতিতার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ২৮ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার অবসান ঘটানোর অনুমতি দিল। যোগ্য চিকিৎসকদের দ্বারা এই গর্ভাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি মিনি পুষ্করণার অবকাশকালীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে শিশুটি যদি জীবিত থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিশু কল্যাণ কমিটিকে বিষয়টি জানাতে হবে। এছাড়া মেয়েটি ও তার বাবা যদি চান, তবে ওই শিশুকে দত্তক দেওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ভ্রূণের টিস্যু সংরক্ষণ করতে হবে। ফৌজদারি মামলায় যা দরকার হবে। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বাবার মাধ্যমে কিশোরী আদালতের দ্বারস্থ হয়। প্রায় ২৬ থেকে ২৮ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা থেকে সে মুক্তি পেতে চায় বলে আদালতে জানায়। কারণ গর্ভাবস্থায় সে আরও মানসিক অবসাদের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। ২৪ জুন দেওয়া নির্দেশে আদালত বলেছে, ‘বর্তমান নির্দেশের ভিত্তিতে আবেদনকারীকে গর্ভাবস্থা অবসানের জন্য নয়াদিল্লির এইমস এ ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেওয়া হল। আইন অনুযায়ী যোগ্য চিকিৎসকদের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা অবসানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হোক।’
আদালত আরও জানিয়েছে, ‘যদি শিশুটি জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয়, তবে রাজ্যের সহযোগিতায় দিল্লি এইমস এর মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করবে। পাশাপাশি শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’ দিল্লি সরকার জানিয়েছে, এইমসের স্পষ্ট রিপোর্টের প্রেক্ষিতে, এ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা অবসানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে তাদের কোনও আপত্তি নেই।