ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সূত্রের খবর, বৈঠকে দুই নেতা হাইড্রোকার্বন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ব্রিকস আওতাভুক্ত দেশগুলির জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে ভারতে রয়েছেন পাকনেজাদ। সেই সফরের মাঝে তিনি পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রসঙ্গত, ভারত এ বছর ব্রিকস এ সভাপতিত্ব করছে। তারই অংশ হিসেবে ১১তম ব্রিকস জ্বালানি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছে নয়াদিল্লি।
পাকনেজাদ ১১তম ব্রিকস জ্বালানি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও নিজের বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি জ্বালানি খাতের একাধিক বিষয়ের ওপর ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান তুলে ধরেন। বুধবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর ইরানের মন্ত্রী ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ইরান ও ভারতের মধ্যে বহু শতাব্দী ধরে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে আমি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে এখানে এসেছি। দেখা যাক এই অধিবেশন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং মূল সম্মেলনে কী আলোচনা হয়। ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে—বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরে—যে কোনও ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা প্রস্তুত।’ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পাকনেজাদ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বলতে গেলে, আপনারা জানেন আমরা ৬০ দিনের জন্য এক ধরনের ছাড় (ওয়েভার) পেয়েছি। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিনিদের সঙ্গে আমাদের যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জ্বালানি বাজার নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। ঠিক সেই সময়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। তবে গত ১৭ জুন ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে। সুইজারল্যান্ডে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। সেখানে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে কাতার ও পাকিস্তান। ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।