ওঙ্কার ডেস্ক: নবান্নের তরফে রাজ্যের নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আইএএস অফিসার কৃষ্ণ গুপ্তের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে তাঁর নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সমবায় দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে কর্মরত কৃষ্ণ গুপ্ত এবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন।
প্রায় এক বছর ধরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি শূন্য ছিল। পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে কমিশনের প্রশাসনিক কাজকর্ম সচিব স্তর থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল। ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, রাজ্যে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরনিগম ও পুরসভার মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই আবহে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে পূর্ণকালীন কমিশনারের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল পঞ্চায়েত, পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচন পরিচালনা করা। ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও কমিশনের অধীনেই সম্পন্ন হয়। ফলে কৃষ্ণ গুপ্তের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বিভিন্ন পুর এলাকায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি আগামী দিনে কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার হতে পারে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার পরিবর্তনের ভিত্তিতে কিছু প্রশাসনিক পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।