ওঙ্কার ডেস্ক: জন্মদিনের উপহার নিয়ে ঝামেলার জেরে নিজের স্ত্রী এবং শাশুড়িকে খুন করে দিল এক ব্যক্তি। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী দিল্লির রোহিণীতে। ইতিমধ্যে জোড়া খুনের অপরাধে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম যোগেশ সেহগল। প্রিয়া সেহগল (৩৪) এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। শনিবার তাদের ছেলের জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষে উপহার বিনিময় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝামেলা হয় যোগেশের। সেই বিরোধের পর নিজের স্ত্রী ও শাশুড়িকে খুন করে সে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন বিকাল ৩:৫০ মিনিট নাগাদ কেএনকে মার্গ থানায় একটি ফোন আসে। যিনি ফোন করেছেন তিনি জানান, রোহিণীর সেক্টর-১৭-এ তাঁর মা ও বোনকে খুন করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে পৌঁছে কুসুম সিনহা (৬৩) এবং তার মেয়ে প্রিয়া সেহগল (৩৪) এর মৃতদেহ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।
এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, ফোনকর্তা ছিলেন কুসুমের ছেলে মেঘ সিনহা (৩০)। মেঘ জানিয়েছেন, ২৮ আগস্ট তাঁর মা তাঁর নাতি চিরাগের জন্মদিন উদযাপন করতে প্রিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন।
এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন উপহার নিয়ে প্রিয়া এবং তাঁর স্বামী যোগেশের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। সেই সমস্যা মিটমাট করার জন্য কুসুম প্রিয়ার বাড়িতেই থেকে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘৩০ আগস্ট, ফোনকর্তা তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তখন কেউ ফোন ধরেনি। এরপর খোঁজ নিতে তিনি প্রিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে এসে দেখেন ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ এবং দরজার কাছে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে।’
মেঘ সিনহা তড়িঘড়ি পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে বিষয়টি জানান এবং তালা ভেঙে ফেলেন ফ্ল্যাটের। ভিতরে ঢুকে কার্যত হতভম্ব হয়ে যান তিনি। মা এবং বোনকে ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রিয়ার স্বামী যোগেশ সেহগল বর্তমানে কর্মহীন। যোগেশই তাঁর মা এবং বোনকে হত্যা করেছে। খুন করার পর সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত। ঘটনার পর অভিযুক্ত যোগেশকে কেএনকে মার্গ পুলিশ গ্রেফতার করেছ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে তার রক্তমাখা পোশাক এবং অপরাধে ব্যবহৃত এক জোড়া কাঁচিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের মতে, পারিবারিক বিরোধের কারণেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
