ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে। গত তিন বছরে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা ও নদী পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন প্রকল্পে মোট প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হলেও নদীর জলমানের বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরিবেশ মন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই বিপুল ব্যয়ের পরও যমুনার জলে দূষণের মাত্রা একই রকম উচ্চ থেকে যাচ্ছে, শহরের বিভিন্ন অংশে নদীর জল এখনও কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক উপস্থিতিতে ভরপুর।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান সমস্যার উৎস হিসেবে অপরিশোধিত নিকাশি এবং শিল্পবর্জ্যই রয়ে গিয়েছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দিল্লির প্রায় অর্ধেক নিকাশি এখনও কোনও রকম শোধন ছাড়াই সরাসরি নদীতে মেশে। শহরের একাধিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু করতে পারেনি, কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণ আটকে আছে জমি সংক্রান্ত জটিলতায়, আবার কিছু প্ল্যান্ট অপর্যাপ্ত ক্ষমতায় চলছে। এর ফলে শোধনের বাইরে থাকা কোটি কোটি লিটার বর্জ্য প্রতিদিন যমুনায় গিয়ে মিশছে, দূষণ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, যমুনার দূষণ কমাতে দিল্লি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যয়ের হিসেব থাকলেও তা বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও বহু দুর্বলতা ধরা পড়েছে। শহরের বড় অংশে এখনো কার্যকর বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেই। নালা–নর্দমা সাফাই, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে প্লাস্টিক, পলিথিন, নির্মাণ বর্জ্যসহ নানা কঠিন আবর্জনা নদীর ধার ও জলে স্তূপ হয়ে রয়ে যাচ্ছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যমুনার পরিচ্ছন্নতা কেবল নদী-ব্যবস্থাপনা নয়, পুরো নগর পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত একটি ব্যাপক চ্যালেঞ্জ। জলাশয় পুনরুদ্ধার, ড্রেন সংযোগ পুনর্বিন্যাস, স্যুয়ার লাইনের লিকেজ মেরামত, নিকাশি নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ সমস্ত ক্ষেত্রেই আরও দ্রুত ও সমন্বিত কাজের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ দখল এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণও যমুনার স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনাকে প্রকৃত অর্থে পরিষ্কার করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে কঠোর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। শুধু অর্থ বরাদ্দ বা প্রকল্প ঘোষণা যথেষ্ট নয়। বরং প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প ইতিমধ্যেই দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং আগামী বছরগুলিতে ফল আরও স্পষ্ট হবে। তবে নদীর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি মনে করছে, যমুনাকে স্বচ্ছ ও সুস্থ করতে এখনো অনেক পথ বাকি।
