ওঙ্কার ডেস্ক : সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণের পর পাঁচজন নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাড়ির কাছে থাকা তিন থেকে চারটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষতি খয়েছে বলে জানা গেছে। দিল্লি পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, “এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ছিল।” আহতদের নিকটবর্তী এলএনজেপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগে। সমাজ মাধ্যমে যে সব ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে একটি ভ্যানের দরজা উড়ে গেছে, একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়ি, একটি ভাঙা গাড়ি এবং মাটিতে একজন আহত ব্যক্তি। এমনিতেই লাল কেল্লা দিল্লির একটি জনাকীর্ণ এলাকা। দিল্লির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রও। ফলে বিস্ফোরণের কথা ছড়িয়ে পড়তেই কৌতুহলি মানুষের ভিড় জমতে থাকে।

দিল্লি দমকল জানিয়েছে, “লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ২০টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। এলাকায় স্বাভাবিক যান চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।” তবে বিস্ফোরণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিস্ফোরণের ধরণ খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমার বাড়ির বারান্দা থেকে আমি একটি বিশাল আগুনের গোলা দেখতে পেলাম। প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছিল। বিস্ফোরণে ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে।”

এই ঘটনার দিনই হরিয়ানার ফরিদাবাদে একটি ভাড়া করা বাসা থেকে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি ভাড়া করেছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার একজন ডাক্তার ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল। জানা গেছে তিনি উগ্রপন্থীদের সঙ্গে জড়িত “হোয়াইট-কলার” সন্ত্রাসী বাস্তুতন্ত্রের মূল সংযোগ হিসেবে কাজ করছেন।
গত কয়েকদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীর এবং ফরিদাবাদ জুড়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই বাস্তুতন্ত্রটি ভেঙে ফেলেছে। গত ১৫ দিন ধরে চলমান হরিয়ানা এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানের ফলে ২,৯০০ কেজিরও বেশি বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
