স্পোর্টস রিপোর্টার : রবিবার ডার্বি দিয়ে কলকাতায় মহারণ। ডুরান্ড কাপের মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি জয়ের সুযোগ কোচ আন্টেনিও লোপেজ হাবাসের। ম্যাচের আগেরদিন যেমন হাবাস অনুশীলন করাননি দলের। মূলত ফিজিক্যাল ট্রেনিং। এদিন হাবাস ম্যাচের আগে জানালেন,’কলকাতা তথা ভারতের ফুটবলে এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে বিশেষ। তবে আমাদের এই ম্যাচটিকেও অন্য ম্যাচের মতোই খেলতে হবে। ডার্বির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। আবেগ যে ১০০ শতাংশ থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে ২৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে এবং ৯০ মিনিটের মধ্যে সঠিক সময় বেছে নিয়ে খেলায় উন্নতি ও পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে ট্যাকটিক্যাল এবং সর্বোপরি মানসিক দিকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।“
হাবাস আরও বলেন, প্রথম ডার্বির পর বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলে অবশ্যই আমরা এখন আরও ভালো অবস্থায় আছি। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দুটি অনুশীলন সেশন হয়েছে এবং হাতে আরও কিছুটা সময় রয়েছে। আমি আমার দলের জন্য কাজ করছি—আমাদের খেলার ধারণা, আমাদের মডেল এবং কোচ হিসেবে আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী দলকে প্রস্তুত করছি। কালকের ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি এবং আবার নতুন করে প্রি-সিজন শুরু করতে হবে। এটি একটি শিরোপার ম্যাচ এবং ডুরান্ড কাপের শেষ ম্যাচ। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। গোলরক্ষকদের ব্যাপারে আমরা সম্ভবত একই পরিকল্পনা বজায় রাখব।’
মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথ বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে পারে। হাবাস বললেন,’আমার কাছে বিশাল খুবই ভালো গোলরক্ষক। অনেক দিন আগে পুনেতে থাকাকালীন আমি বিশালকে কোচিং করিয়েছি। জেমও আমার কাছে খুব ভালো গোলরক্ষক। এছাড়া লক্ষ্মীণগৌরাও খুব ভালো মানের গোলরক্ষক। আমাদের এই বিভাগ নিয়ে আমি খুবই খুশি। তবে আমি আশা করি, ম্যাচে আমাদের গোলরক্ষককে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে না। বিশালের জন্য সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, রেফারি খুব ভালো। শেষ ম্যাচে হয়তো লাইন্সম্যানের কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু রেফারিদের নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব—স্পেনেও হয়, বিশ্বকাপেও হয়, সব প্রতিযোগিতাতেই হয়। আমি শুধু রেফারির জন্য শুভকামনা জানাতে চাই। আমি চাই না রেফারি আমাকে কোনো সুবিধা দিন। আমি শুধু নিরপেক্ষ রেফারিং চাই। এটাই তাঁর কাজ। মোহনবাগানের শারীরিক অবস্থাও ভালো। তাই আমি মনে করি ম্যাচটি খুবই সমানে সমানে হবে। যে দল বেশি ধৈর্যশীল এবং বেশি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে পারবে, তারাই জিতবে।’
ডার্বিতে নামার সময় কি আপনার অতিরিক্ত প্রেরণা কাজ করে? হাবাস জানান,’আমার বয়সে এসে প্রেরণার ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্যারিয়ারের প্রথম দিন যেরকম প্রেরণা ছিল, এখনও ঠিক একই রকম রয়েছে। ফুটবলে এত বছর কাজ করার পরও যদি কেউ শুধু বলে, ‘এখন আমার বেতন দরকার’, তাহলে সেটা আমার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। আমার প্রথম ডার্বির সময় যে প্রেরণা ছিল, এখনও একই প্রেরণা রয়েছে। যদি সেই প্রেরণা না থাকে, তাহলে পেশাদার ফুটবল থেকে সরে যাওয়াই হবে আমার প্রথম সিদ্ধান্ত। চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে বড় ম্যাচ, আর এই ম্যাচটিও ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ম্যাচ। কলকাতা ও ভারতের ফুটবলে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক। কাল গরম থাকবে, আর্দ্রতা থাকবে, রেফারি থাকবেন, আমাদের স্ট্রাইকার নেই—এসব কোনো কিছুই অজুহাত হতে পারে না। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’