ওঙ্কার ডেস্ক : অত্যধিক বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ মওকুফ করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ১০৫ বছর বয়সী খুনের আসামি রসিক চন্দ্র মণ্ডলকে মুক্তি দিল।
সম্পত্তির বিবাদের জেরে ১৯৮৮ সালে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রসিক চন্দ্র মণ্ডল এখন মুক্ত মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করবেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মামলাটি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ মওকুফ করেছে। শুধু তাই নয়, এই রায় দিতে গিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত। কেননা, ১০০ বছর বয়স পার করার পরেও নিজের মামলার বিষয়ে আইনি নির্দেশনা দেওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছেন রয়েছে আসামী।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, রসিক চন্দ্র মণ্ডলের বয়স বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি বন্ধ করা হচ্ছে এবং তাঁর সাজা মওকুফ করা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ না হলেও তাঁকে আর হেফাজতে নেওয়া হবে না।” এছাড়া বেঞ্চ মণ্ডলকে ২০২৪ সালে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশটিকে চূড়ান্ত ও স্থায়ী রূপ দেয়।
১৯২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় মণ্ডলের জন্ম। সম্পত্তির বিবাদের জেরে ১৯৮৮ সালে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালে আদালত মণ্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর। ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।
২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর করা আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর মণ্ডল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন, কিন্তু শীর্ষ আদালতও তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। ২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে মণ্ডল অত্যধিক বয়স ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগাম মুক্তির আবেদন জানান। ২০২১ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নোটিশ জারি করে।
আবেদনটি বিবেচনার সময় সুপ্রিম কোর্ট মণ্ডলের বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার বিষয়টি আমলে নিয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, রিট আবেদনটি বিচারাধীন থাকাকালীন বিচারিক আদালতের নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বা প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে।
সর্বোচ্চ আদালত এখন এই আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটিয়েছে এবং তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ মওকুফ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনটি চূড়ান্ত হওয়ায় মণ্ডলকে আর কারাগারে ফিরতে হবে না এবং তিনি একজন মুক্ত নাগরিক হিসেবে তাঁর বাকি জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন।