স্পোর্টস রিপোর্টার : ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন ম্যাচে হারানো গেছে ইস্টবেঙ্গলকে। এবারে ফাইনালে ফের ডার্বি। ডার্বি জয়ের পাশাপাশি ফের ট্রফি তুলতে চায় মোহনবাগান। তবে প্রথম ম্যাচে প্রস্তুতি ছাড়াই একপ্রকার নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। এই ইস্টবেঙ্গলকে হারানো কঠিন হবে জানে বাগান শিবির। এদিন বাগান কোচ প্যানোস বললেন,’ডুরান্ড কাপের সূচি নিয়ে আমরা সত্যিই হতাশ। গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়ার পরও এমন সূচি পাওয়া আমাদের কাছে পুরোপুরি অন্যায্য। ছয় দিনে তিনটি ম্যাচ, তার মধ্যে আবার বাইরে গিয়ে খেলা এবং দীর্ঘ ও কঠিন সফর—একজন কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি মোটেই সহজ নয়। গতকাল আমাদের অনুশীলন হয়নি। আজ মাঠে গিয়ে একটি সেশন করব। সেখানে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই ধরনের ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।
প্যানোস আরও বলেন, ‘প্রথম ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচের কোনও তুলনাই চলে না। মরসুমের শুরুতে আমরা প্রথম ডার্বি খেলেছিলাম। এখন দুই দলই আরও অনেক ম্যাচ খেলেছে। দুই দলেই নতুন ভারতীয় ও বিদেশি ফুটবলার যোগ হয়েছে, আবার কেউ কেউ চোটের কারণে বাইরে রয়েছে। তাই বাস্তবে এটা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা দল। তবে আগের ম্যাচটাকে আমরা ভুলে যেতে পারি না। আমরা ওদের হারিয়েছিলাম এবং প্রায় ৭০ মিনিট আমরা ভালো খেলেছিলাম। সেই জয়টা আগামীকালের ম্যাচে আমাদের আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। আগের ম্যাচে জিতেছিলাম—এটা জানাটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। আশা করছি, আগামীকাল ভালো মাঠে খেলব এবং আবার গোল করার পাশাপাশি আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারব।
বিশাল কাইথকে নিয়ে বাগান কোচ বললেন ‘ হ্যাঁ। আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বললে, ওর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ভারতে অন্য গোলকিপারদের মধ্যে খুব সহজে পাওয়া যায় না। বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি বিশাল দেশের অন্যতম সেরা, বরং সেরা গোলকিপারদের একজন। এই ধরনের ম্যাচে অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ডার্বির পরিবেশ, গ্যালারি ভর্তি দর্শক, চাপ—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু শুধু অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়।
খেলোয়াড়দের আবেগ থাকতে হবে, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। একইসঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হবে, অহংকারী হওয়া চলবে না এবং বিনয়ী থাকতে হবে। আগামীকাল আমাদের এই বিষয়গুলোই নিশ্চিত করতে হবে। অভিজ্ঞতা আছে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে আবেগ ও চাপও সামলাতে হবে।’
এছাড়া বাগান কোচ বললেন,’সত্যি বলতে, এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চাই। তবে অবশ্যই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে চাই এবং কাপটা ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাই।
আপনারা যদি আমাকে বলেন কবে মরসুম শুরু হবে, তাহলে আমি আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। তবে এই মুহূর্তে ডুরান্ড কাপের গুরুত্ব অনেক। আমরা কাপ জিততে চাই। এরপর আমাদের হাতে কতটা সময় থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী প্রস্তুতি। সাধারণত একটি দলের হাতে আট-নয় সপ্তাহ থাকলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করা যায়—ফিটনেস, টেকনিক্যাল দিক, ট্যাকটিক্যাল দিক এবং মানসিক প্রস্তুতি। এই কয়েক সপ্তাহে আমরা ফিটনেস নিয়ে খুব বেশি কাজ করতে পারিনি। খেলোয়াড়দের সুস্থ ও চোটমুক্ত রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। ম্যাচ খেলেই তাঁরা অনেক কিছু উন্নত করছে। টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিকেও এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। তাই প্রস্তুতির জন্য সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কতটা সময় পাব, তার ওপরই নির্ভর করবে দলকে কতটা উন্নত করতে পারব।
তবে আগামীকালের ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডুরান্ড কাপ ভারতের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলির একটি। এই ম্যাচের ছবি, হাইলাইটস এবং আবহ সারা বিশ্বের সামনে ভারতের ফুটবলকে তুলে ধরবে। তাই আগামীকাল আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে—সমর্থক, কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এবং অবশ্যই রেফারিদেরও। আমাদের খেলোয়াড়দের ভালো মান বজায় রাখতে হবে। রেফারিদেরও নিরপেক্ষভাবে ৫০-৫০ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তে পেনাল্টির জন্য আমাদের চিৎকার করতে হবে—এমন পরিস্থিতি আমরা চাই না। ইস্টবেঙ্গলের মান রয়েছে, অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওরা শক্তিশালী দল। তবে আমিও বিশ্বাস করি, সুযোগ থাকলে ম্যাচটা ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করা ভালো।’