নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: বন্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢোকার অভিযোগে আটক ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠালেন ম্যাজিস্ট্রেট। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ দু’জনকে মার্গ মন্দির থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। দু’পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, একই ঘটনায় আটক আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্দেকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তিভঙ্গ করবেন না, এই শর্তে বন্ডে সই করানোর পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অভিযোগকে সামনে রেখে ফের যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। কিন্তু সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনেই মঙ্গলবার সকালে বন্ধ গেট টপকে যন্তর মন্তরের ভিতরে ঢুকে পড়েন সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক-সহ কয়েকজন সমর্থক। ভিতরে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। এরপরই পুলিশ সকলকে আটক করে। প্রথমে জানা যায়, ওই ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে বুধবার ভোরে সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই গ্রেফতারি করা হয়েছে।
পুলিশের তরফে তিন নেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরভ এবং আশুতোষের বিরুদ্ধে আগের বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরই দিপকে, রাঙ্কা এবং সৌরভদের প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তখন আদালত থেকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে জামিন পেয়েছিলেন তাঁরা। সেই শর্ত ভেঙে ফের নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে ঢোকার জেরেই এবার তাঁদের জেল হেফাজতে যেতে হল।