ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেসের অন্দরমহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং। সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পুরনো ছবি পোস্ট করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আরএসএস ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কীভাবে দীর্ঘদিনের সংগঠনমূলক কাজের মধ্য দিয়ে একজন কর্মী দেশের শীর্ষ পদে পৌঁছতে পারেন। এই মন্তব্য ঘিরেই কংগ্রেস শিবিরে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও অস্বস্তি।
দিগ্বিজয় সিংয়ের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই একে কংগ্রেস নেতৃত্ব ও দলের সংগঠন কাঠামোর প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি দিগ্বিজয় সিংয়ের নাম না করেই পাল্টা বার্তা দেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা রেভন্ত রেড্ডি। তিনিও এক্সে পোস্ট করে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। রেভন্ত রেড্ডির বক্তব্যে উঠে আসে, সনিয়া গান্ধী কীভাবে ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা পারিবারিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পি ভি নরসিমা রাও ও মনমোহন সিংয়ের মতো নেতাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন।
রেভন্ত রেড্ডির পোস্টকে কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ এবং দলের ঐক্যের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, এটি দিগ্বিজয় সিংয়ের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না হলেও, দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ার একটি কৌশলী প্রয়াস। একই সঙ্গে কংগ্রেসের ভেতরে যে নেতৃত্ব ও সংগঠন নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সেটিকেও পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে বিতর্ক বাড়তে থাকায় দিগ্বিজয় সিং নিজেও ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন। তিনি জানান, তাঁর মন্তব্যের উদ্দেশ্য দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা নয় এবং কংগ্রেস সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়টিকে বাড়িয়ে তুলে কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি এই সুযোগকে হাতছাড়া করেনি। শাসকদলের নেতারা দিগ্বিজয় সিংয়ের মন্তব্যকে সামনে এনে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন এবং দলটিকে পরিবারতন্ত্র ও কেন্দ্রীভূত নেতৃত্বের অভিযোগে বিদ্ধ করেছেন।
