ওঙ্কার ডেস্ক : কসবাকাণ্ডে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠিয়েও রাজ্যের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছে না বিজেপি, এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ঘটনাটি শুরু থেকেই চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। মানুষের সত্য জানার অধিকার রয়েছে বলেই দল তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কার্তিক মহারাজকে থানায় তলব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, এই ঘটনা এবং আর জি কর কলেজ ইস্যু আসন্ন উপনির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন দিলীপ ঘোষ।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম ও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধিকার আছে রাজ্যে কী হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার। কসবাকাণ্ডে শুরুতে প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। সত্য ঘটনা জানার অধিকার মানুষের আছে, তাই এই তদন্ত টিমের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।”
কার্তিক মহারাজকে থানায় তলব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ একটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত করা পুলিশের কাজ। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে বদনাম করার কৌশল নতুন নয়। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধেও প্রথমে দলের পক্ষ থেকেই অভিযোগ হয়েছিল, কিন্তু তখন পুলিশ ডাকেনি। পরে সিবিআই তাঁকে তলব করায় পাল্টা পুলিশি পদক্ষেপ দেখা গিয়েছে।
এছাড়াও “অগ্নিমিত্রা পালের ‘সিবিআই নয়, পুলিশের উপর ভরসা’ প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর কটাক্ষ, “যখন পুলিশের কাজের উপর মানুষের আস্থা থাকে না, তখনই তারা সিবিআই চায়। তৃণমূলও তাদের পরিবারের কেউ মারা গেলে সিবিআই তদন্ত চায়। তাই এককথায় পুলিশের উপর নিঃশর্ত ভরসা তৃণমূলও রাখে না।”
সামনেই বিধানসভা সেই প্রেক্ষিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। কসবা-কাণ্ড এবং আর জি কর কলেজ ইস্যু নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি ? দিলীপ ঘোষ জানান, “এই সরকার গত ১৫ বছরে বহুবার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এবার সাধারণ মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন, আর চলবে না। বিজেপি মানুষের সামনে এসব ঘটনা তুলে ধরবেই।”
সিপিএম নেত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, “উনি আমার পরিচিত। কয়েক মাস আগে আমিও এমন ঘটনার মুখে পড়েছিলাম, কিন্তু রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আজ তৃণমূলের মহিলা নেত্রীরা চুপ কেন ? সাহস থাকলে শশী পাঁজা বা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা প্রতিবাদ করুন। কসবাকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, “ওই তরুণীকে কলেজে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি রাত পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। একজন মহিলা নিজের ইচ্ছায় ও পরিস্থিতিতে কলেজে এতক্ষণ থাকবেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ওই অভিযুক্ত তরুণ আইন পাশ করা, অথচ কলেজে নানা খুঁটিনাটি কাজ করছেন, এটা রাজ্যের কর্মসংস্থানের হাল বোঝায়। ভাইস প্রিন্সিপালও অসহায়, কিছুই বলতে পারছেন না। কারও কিছু বলার সাহস নেই।”