ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬-র ৮ জুন বিশাল বড় মহাজাগতিক দৃশের মুখোমুখি হতে চলেছে পৃথিবীবাসী। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এক বিশাল সৌরঝড়! গত কয়েকদিন ধরেই সূর্য যেন মহাকাশে একের পর এক আতশবাজি ফাটাচ্ছিল। এবার সেই উত্তাপ সরাসরি টের পেতে চলেছে পৃথিবী। সূর্যের একটি সক্রিয় অংশ ‘অ্যাক্টিভ রিজন ৪৪৬১’ থেকে গত ৬ জুন এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে তৈরি হওয়া একটি বিশাল, ঘন এবং তীব্র চৌম্বকীয় গ্যাসীয় পিণ্ড প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে। আজ, সোমবার এটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে। এই মহাজাগতিক ঘটনার কারণে আমেরিকার মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র পৃথিবীতে একটি ‘G3’ বা তীব্র মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় আছড়ে পড়ার সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে এটি সাময়িকভাবে ‘G4’ মাত্রাতেও পৌঁছাতে পারে। নাসা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া নজর রাখছে। আদতে সূর্য হল গ্যাসের একটি জলতে থাকা আগুনের পিণ্ড। যার ভেতরে তাপমোচি বিক্রিয়া। আছড়ে পড়ার সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে এটি সাময়িকভাবে ‘G4’ মাত্রাতেও পৌঁছাতে পারে। নাসা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া নজর রাখছে।
সহজ কথায়, সূর্যের বায়ুমণ্ডলে ভাসমান একটি বিদ্যুতের তৈরি বিশাল সেতুর মতো হল এই ফিলামেন্ট। এর ভিতরে থাকা গ্যাস সূর্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় কিছুটা ঠান্ডা হলেও তা অত্যন্ত ভারী ও ঘন হয়। সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র যখন তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখন এই ফিলামেন্টটি তীব্র বেগে মহাশূন্যে ছিটকে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের ফিলামেন্টটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি পৃথিবীর ঢাল ভেদ করে তীব্র ঝড় তুলতে পারে।
এই মহাজাগতিক রশ্মির সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হল ‘অরোরা’ বা মেরুজ্যোতি (Aurora)। সাধারণত মেরু অঞ্চলেই এই রঙিন আলোর খেলা দেখা যায়। কিন্তু ঝড় যদি ‘G3’ বা ‘G4’ মাত্রার হয়, তবে এই আলো অনেক নীচে নেমে আসে। আবহাওয়া পরিষ্কার এবং অন্ধকার থাকলে আজ সোমবার রাতে ভারতের উত্তরাঞ্চল, সেন্ট্রাল ইউরোপ এবং আমেরিকার বেশ কিছু অংশে আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আলোর এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যেতে পারে। ২০২৪ সালের মে মাসেও এমন এক শক্তিশালী ঝড়ের কারণে ভারতের আকাশে মেরুজ্যোতি দেখা গিয়েছিল।