ওঙ্কার ডেস্ক : তদন্তে নেমে কপালে চোখ পুলিশের। তিন তিনটি খুনের আগে অপরাধী কী ভাবে খুন করে প্রমাণ লোপাট করবে তার জন্য গুগল জেমিনির সাহায্য নেয় অপরাধী। হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ সাইদুলু আদভাতের মতে, বেঙ্গালুরুর এই তিন খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপরাধের পরিকল্পনার সময় অস্ত্র, মৃতদেহ লোপাট, বিষ প্রয়োগ এবং পুলিশের নজরদারি এড়ানোর উপায় সম্পর্কে জানতে গুগলের এআই চ্যাটবট ‘জেমিনি’-র সহায়তা নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংগঠনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরির জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
তিনি বলেন, “সে গুগল জেমিনি ব্যবহার করছিল। সে বিভিন্ন কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে অস্ত্র, মৃতদেহ পোড়ানোর পদ্ধতি, মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে কীভাবে থাকা যায়—এসব বিষয়ে তথ্য খুঁজছিল। এমনকি সে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং ধীরগতিতে কাজ করে এমন বিষ কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল।”
পুলিশ আরও অভিযোগ, ওই ব্যক্তি একটি চুল্লি বসিয়ে প্রমাণাদি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিল। ডিসিপি বলেন, “সে একটি ‘ক্লাউড কিচেন’ চালু করতে চেয়েছিল। তার জন্য সে চুল্লি ও ট্যাঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেগুলো বসিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, মৃতদেহটি লোপাট করার কাজে সেগুলোকে ব্যবহার করা হবে।”
খুনের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদভাৎ জানান, তদন্তকারীদের ধারণা—পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার আগে ওই অভিযুক্ত প্রথমে মায়ের ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “সবার আগে মায়ের ওপর হামলা করা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বাবা ও বোন দরজার কাছে চলে আসেন। সে বাবাকে ছুরি মারে। বোন চিৎকার করে উঠলে সে তার দিকে ঘুরে দাঁড়ায় এবং তাকেও একইভাবে আক্রমণ করে। বোন মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও, ছুরিতে জখম হওয়ার পরও বাবা কোনোমতে দৌড়ে নিচে নেমে যেতে সক্ষম হন।”
অভিযুক্তের সঙ্গীর ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ওই পুলিশ অধিকর্তা জানান, কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ওই নারী অবগত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কী ঘটছে তা জানতেন। পুরো পরিকল্পনাটিও তার জানা ছিল।”
অপরাধের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আদভাৎ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছে যে আর্থিক সংকট এবং ওই নারীর পরিবারের চাপের ফলে এই কাজ করতে সে বাধ্য হয়। গুগল থেকে অভিযুক্তের ‘সার্চ হিস্ট্রি’ সংগ্রহের জন্য পুলিশ এখন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
ডিসিপি বলেন, “আমাদের ধারণা, গুগলের কাছে ইতিমধ্যে একটি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এর জন্য আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় এবং যথাযথ আইনি চ্যানেলের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় আবেদনটি করতে হয়।” অভিযুক্তের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।