নিলয় ভট্টাচার্য : ভালবাসার টানে অন্য ধর্মের এক যুবককে বিয়ে করেছিল প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। কিন্তু মেয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি মেয়েটির পরিবার। বাবা, মা ও কাকার প্রবল আপত্তিকে উপেক্ষা করে মেয়ের এই বিয়ের ঘটনায় রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবার। শেষপর্যন্ত জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধসাধন করল তারা। পিন্ডদান-সহ সম্পূর্ণ ধর্মীয় রীতি মেনে শ্রাদ্ধ কর্ম সম্পন্ন হয় কৃষ্ণগঞ্জের খাটুরা উত্তরপাড়ার বাড়িতে।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রেম করে বিয়ে করে ওই তরুণী। ছেলেটি ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় পরিবার শুরু থেকেই এই সম্পর্কে আপত্তি জানায়। তবে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে পিছপা হয়নি মেয়েটি। আর এতেই ফেটে পড়ে ক্ষোভ। পরিবারের তরফে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—মেয়ের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা হবে।মেয়েটির বাবা কর্মসূত্রে বাইরে থেকে জানতে পারে পুরো বিষয়টি। শেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কড়া নির্দেশ দেন মেয়ের শ্রাদ্ধ করার জন্য।বাড়িতে পুরোহিত ডেকে, মেয়ের বাঁধানো ছবিতে মালা দিয়ে, ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মেয়েটির বাবার কথামতোই তার কাকা সোমনাথ বিশ্বাস আয়োজন করেন এই ‘শ্রাদ্ধানুষ্ঠান’।“এর আগেও মেয়েটি এমন কান্ড ঘটিয়েছিল। সেবার বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনা গিয়েছিল। এবার সে আবার পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় গোটা কৃষ্ণগঞ্জে। মেয়েটির মা জানান, আমাদের ভালোবাসাকে ঠকিয়ে সে চলে গেলো।
অন্য ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে মেয়েটির পরিবার। তাকে আর ফেরোতে চায় না ঘরে। মুসলিম ধর্মের সাথে আমাদের মিল নেই জানান মেয়েটির কাকি।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় গোটা কৃষ্ণগঞ্জে। প্রতিবেশীরা এমন ঘটনায় বিস্মিত।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, পারিবারিক মান-সম্মান এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে। সমাজে কোথাও যেন আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল সহনশীলতা, ভালবাসা এবং সহমর্মিতার বোধ।
