ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগে বিরোধীদের সুরেই সরব ডিএমকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR বাতিলের দাবিতেও অনড় দলটি। কিন্তু এই ইস্যুতে কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে আসতে নারাজ তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শাসকদল। বরং ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন করলেও কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চায় তারা। এমনই বার্তা দিয়েছেন দলের প্রধান এমকে স্ট্যালিন।
সম্প্রতি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। সেখানে আন্দোলন আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব থাকার পাশাপাশি SIR বাতিলের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির পাশেও থাকার বার্তা দেন। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ইস্যুতেই একমঞ্চে যাওয়া যাবে না বলে দলীয় নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্ট্যালিন। সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, দলটি ডিএমকে-কে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। তাই তাদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা বা যোগাযোগ রাখা উচিত নয় বলেও মত তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টিকে সামনে রেখে আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে বিকল্প তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে পারে ডিএমকে। এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের এই দূরত্ব জাতীয় স্তরের বিরোধী রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে চলতি মাসের শেষ দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই অধিবেশনে ফের ডিলিমিটেশন বা লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা হতে পারে বলে জল্পনা।
সরকারি সূত্রের দাবি, এবার লোকসভায় বিল দু’টি পাশ করানোর বিষয়ে আশাবাদী কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, বিশেষ অধিবেশন ডেকে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে না বলেও মনে করছে বিরোধী শিবির। বিল দু’টি পাশ করানোর উদ্যোগ ফের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে তারা। তবে সরকারের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা ডিএমকে কি কেন্দ্রের বিলগুলিকে সমর্থন করতে পারে? এই সম্ভাবনা ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে।