ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় মুদ্রার দরপতন নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম বা বৈদেশিক বিনিয়োগের টানাপড়েন, সবকিছুই রুপিকে প্রভাবিত করে। তবে সাম্প্রতিক পতন নিছক বাজারের ওঠানামা নয়, বরং নীতিনি র্ধারণী চাপের সরাসরি ফল।
বুধবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে আমেরিকার নতুন শুল্কনীতি। এর ফলে রফতানিকারকদের উপর শুল্কের বোঝা প্রায় ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। ভারত থেকে আমেরিকায় বছরে যে ৮৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি হয়, তার প্রায় ৫৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা। প্রতিযোগী দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও চিন এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হতে পারে। মুদ্রা বিশ্লেষক দিলীপ পারমারের কথায়, ‘‘ডলারের চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যহীনতায় ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হচ্ছে। রেকর্ড পতন অবশ্যম্ভাবী।’’ এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জিএসটি ছাড়ের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছেন।
রপর ছ’দিন ধরে একটানা দরপতনের পর বুধবার ডলারের নিরিখে টাকার দাম নেমে দাঁড়াল ৮৭.৬৬-এ, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। মঙ্গলবার টাকার দাম ছিল ৮৭.৬৮। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যের উপর চাপানো অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কের জেরেই এই পতন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে অর্থ টেনে নেওয়ায় রুপির ওপর চাপ বাড়ছে বলেই তাঁদের অনুমান। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সেনসেক্সে বড়সড় ধস নেমেছিল। সূচক ৮৪৯.৩৭ পয়েন্ট পড়ে দিনের শেষে দাঁড়ায় ৮০,৭৮৬.৫৪-তে। নিফ্টি ২৫৫.৭০ পয়েন্ট নেমে থামে ২৪,৭১২.০৫-এ। বুধবার গণেশ চতুর্থীর ছুটির কারণে শেয়ার বাজার বন্ধ রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার মার্কিন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব শেয়ার বাজারে কতটা পড়েছে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে।
