ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম পরিবর্তন করে যুদ্ধ বিভাগ করতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী শুক্রবারই সেই বিবৃতে স্বাক্ষর করতে চলেছেন ট্রাম্প, এমনটাই জানা গিয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে।
একতী সরকারি দফতরের নাম পরিবর্তনের কারন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে যুদ্ধ বিভাগ বেশি জোরালো এবং প্রভাবশালী নাম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, “আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশ নিজের প্রতিরক্ষা করতে সক্ষম। যে দেশ দুটি বিশ্বযুদ্ধ জিতেছে এবং একাধিক দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে সেই দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের প্রয়োজন নেই”। তিনি আরও জানান, “প্রতিরক্ষা সচিবের মুখে প্রতিরক্ষা দফতর শুনতে আমার খারপ লাগে”। ট্রাম্পের কথায় অন্য দেশের থেকে আমেরিকার প্রতিরক্ষার দরকার নেই।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৭৮৯ সালে আমেরিকায় প্রথম ‘যুদ্ধের দফতর’ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ওই দফতরে ছিলেন এক জন যুদ্ধ বিষয়ক সচিবও। একই বছরে আলাদা ভাবে নৌ দফতরও খোলা হয়।
প্রথমদিকে ‘যুদ্ধের দফতর’ই আমেরিকার সেনা ও বায়ুসেনার কাজকর্ম সামলাত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাশ করে সেনা ও বায়ুসেনার জন্য আলাদা দফতর তৈরি করেন। পরে সেনাবাহিনীর সব বিভাগকে একত্রিত করে গঠিত হয় ন্যাশনাল মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট (এনএমই)। তার কিছু বছর পর নাম বদলে দাঁড়ায় আজকের ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা দফতর। সেই নাম এখন পালতেয়াতে মড়িয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ বার ট্রাম্পের নাম বদলের প্রস্তাব ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি নিছক কাকতালীয় নয়। বুধবার বেজিঙে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান এবং জাপানের বিরুদ্ধে চীনের জয়কে স্মরণ করে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে শি জিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং উন এক মঞ্চে আসতেই নতুন ভূ-রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। বিজয় উৎসবের আসরে আমেরিকার অনুপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
