ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ -এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের বিশাল তেলভান্ডার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে আমেরিকা ও পাকিস্তান। তাঁর কথায়, “এইমাত্র আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন করলাম। সেই অনুযায়ী ওদের বিশাল তেলভান্ডারকে কাজে লাগানোর জন্য যৌথ উদ্যোগে নামব আমরা”। এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেবে কোন মার্কিন সংস্থা, তা নির্ধারণ করবে মার্কিন প্রশাসন। একই পোস্টে ট্রাম্প হালকা কটাক্ষের সুরে যোগ করেন, “কে বলতে পারে, একদিন পাকিস্তান হয়তো ভারতকেই তেল বিক্রি করবে!”
অন্যদিকে, ইসলামাবাদ বলছে একেবারেই ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে। যার ফলে পাকিস্তানি পণ্যের উপর আমেরিকায় শুল্ক হ্রাস পাবে। যদিও ট্রাম্প সেই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। না শুল্ক কমানো নিয়ে কিছু বলেছেন, না বাণিজ্যচুক্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
পাকিস্তানের আমেরিকা দূতাবাস ‘এক্স’-এ জানায়, “এই চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি, খনিজ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি-সহ বহু ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিক খুলে যাবে”। কিন্তু ট্রাম্পের পোস্টে কেবলমাত্র তেলসম্পদ নিয়ে কাজের কথাই রয়েছে, অন্য কোনও ক্ষেত্রের নাম নেই। আর শুল্ক নিয়ে সেখানে একেবারে নিশ্চুপ হোয়াইট হাউস। এই বিভ্রান্তির জেরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জল্পনার পারদ চড়ছে। দুই দেশের বক্তব্যের এমন অসামঞ্জস্য কি বোঝাপড়ার অভাব, নাকি প্রচারের উদ্দেশ্যে খেলার কৌশল তা নিইয়ে দ্বন্দ থেকেই যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্প নির্বাচনের আগে তেল-কেন্দ্রিক সাফল্যের বার্তা দিতে চাইছেন, আর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুবিধা আদায় করে নিতে চাইছে।
এই পরিস্থিতিতে ঠিক কী নিয়ে চুক্তি হয়েছে তা ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া বানিজ্যিক চুক্তির আসল রহস্য। নাকি এর নেপথ্যে আছে কোনো দ্বিধাজনক আরেকটি রাজনৈতিক প্যাঁচ।
