ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত খনিজ তেল কেনে বলে নয়াদিল্লির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের উপর খড়গহস্ত হলেও ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির প্রতি সুর নরম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের। রাশিয়া যে হাঙ্গেরির কাছ থেকে তেল কিনছে, এই বিষয়টিকে কার্যত সরাসরি সমর্থন করেছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন অবস্থান তাঁর দুমুখো নীতিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
হাঙ্গেরি কেন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে তার সপক্ষে যুক্তিও দাঁড় করিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘হাঙ্গেরি পরিস্থিতির শিকার। কারণ, ওদের একটাই পাইপলাইন আছে, সেটা বছরের পর বছর ধরে রয়েছে। স্থলভাগে ঘেরা দেশ হাঙ্গেরি। দেশটির চারপাশে কোনও সমুদ্র নেই। ফলে ওদের পক্ষে তেল পাওয়া কঠিন। আমি সেটা বুঝি।’ প্রসঙ্গত, ইউরোপের হাঙ্গেরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্য। দেশটির প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের অনেকটা জোগান আসে রাশিয়ার কাছ থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, হাঙ্গেরি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। ইতিমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে তৈল বাণিজ্য অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ভারত শীঘ্রই রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। শুক্রবারও একই কথা শোনা যায় তাঁর গলায়।
এর আগে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেই ফোনালাপে মোদী তাঁকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আর কিনবে না নয়াদিল্লি। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনে আদৌ কথা হয়নি। এদিকে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে চলেছে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে খবর।
