নিজস্ব প্রতিনিধি: রাশিয়া সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক মকুব করা হল।
গত মাসে ‘লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের অন্যতম সমর্থক প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্র্যাহামের নামে এই বিলের নামকরণ করা হয়। কিভ সফর থেকে ফেরার পর চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। বিলের লক্ষ্য ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য রাশিয়ার আর্থিক উৎসে আঘাত করা, বিশেষ করে ব্যাঙ্ক, জ্বালানি খাত এবং সামরিক কর্মকাণ্ডে সাহায্যকারী বিদেশি সংস্থাগুলিকে চাপে রাখা। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থনে বিলটি কংগ্রেসে বিপুল ভোটে পাশ হয়।
এই আইনের আওতায় রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর সুযোগ পেত আমেরিকা, যা ভারত ও চিনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। কারণ রাশিয়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি বিক্রি করেই যুদ্ধের খরচ জোগাড় করে এবং তার প্রধান ক্রেতা ভারত ও চিন। এই শুল্ক কার্যকর হলে ভারত-চিন থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ার এবং বিশ্ব বাণিজ্যে সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা ছিল।
তবে বিল কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন শুক্রবার গভীর রাতে জারি করা আদেশনামায় ট্রাম্প বলেন, তিনি গ্র্যাহাম অ্যাক্টে উল্লিখিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রয়োগ মকুব করছেন এবং এই মর্মে কংগ্রেসে প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন যে, এই ছাড় দেওয়াই এই মুহূর্তে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান নরম হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশ্য সমালোচনা করে তিনি সে দেশে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন। এর আগে বিল পাশের পর ভারত জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ চালিয়ে যাবে।