ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুরের চিকিৎসা শিক্ষার্থী গণধর্ষণ মামলায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে পুলিশ। পশ্চিম বর্ধমান জেলার এই নৃশংস ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে। পুলিশের দাবি, নির্যাতিতার মোবাইল ফোনের লোকেশন এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে তিন জনকে ও পরে আর এক পুরকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুরো ঘটনার লিখিত বয়ান জমা দিয়েছেন নির্যাতিতা। তাঁর বয়ান অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে তিনি আর তাঁর সহপাঠী বন্ধু খাবার খেতে গিয়েছিলেন। রাত আটটা নাগাত ফেরার সময় কলেজের কাছে একটি নেশার ঠেকের থেকে তিন জন তাঁদের উত্যক্ত করে। পরে সেই দুষ্কৃতিরা দুইজনের উপর চড়াও হয়। প্রথমে নির্যাতিতার ফোন কেড়ে নিয়েছিল তাঁরা। দুষ্কৃতিরা হামলা করতেই নির্যাতিতার সহপাঠী পালিয়ে যান। তারপর সেই ডাক্তারি ছাত্রীকে পাশের জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করা হয়। পরে আরও দুই জন যোগ দেয় দুষ্কর্মে। নির্যাতিতার কথায় তাঁর সহপাঠী বন্ধু পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতলে নিয়ে যায়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের পরিচয় যাচাই চলছে। গ্রেফতার চার জনের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে যা তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সাহায্য করবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় এর আগে ছোটখাটো অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঘটলেও এত ভয়াবহ অপরাধ আগে ঘটেনি।
নির্যাতিতা বর্তমানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে তিনি চরম আঘাতপ্রাপ্ত। ইতিমধ্যেই তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। কলেজের গেটে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের পাশাপাশি রাত্রিকালীন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথাও ভাবা হচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর নির্যাতিতার বাবা রাজ্য সরকারের কাছে মেয়েকে ওড়িশায় স্থানান্তরের অনুমতি চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার মেয়ের নিরাপত্তা পশ্চিমবঙ্গে সুনিশ্চিত নয়। ওড়িশায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, মেয়েকে আবার হুমকি দেওয়া হতে পারে, তাই রাজ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপারের তরফে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, “ঘটনাটি লজ্জাজনক। দোষীরা কেউই ছাড় পাবে না।” তবে তাঁর মন্তব্য যে মেয়েদের রাতে বাইরে যাওয়া এড়ানো উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছড়িয়েছে।
