ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুর ধর্ষণ কান্ডে এবার গ্রেফতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলি। মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নিমান করার জন্য নির্যাতিতাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় তৃতীয় বর্ষের ডাক্তারি ছাত্র এবং নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলিকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর নিউটাউন থানার পুলিশ। বুধবার আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।
দুর্গাপুরের চিকিৎসা শিক্ষার্থীর উপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় নয়া মোড়। তদন্তে নেমে সহপাঠীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ওই ছাত্র একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং নির্যাতিতা তরুণীর ঘনিষ্ঠ সহপাঠী। অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনিই তরুণীকে কলেজ চত্বরের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তরুনীকে যৌনহেন্সথা করা হয়।
এর আগে এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে আরও দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। সর্বশেষে সহপাঠীর গ্রেফতারের পর ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল একজনই। তবে অন্যদের ভূমিকা নিয়ে চলছে খোঁজখবর। কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল কি না, কেউ সাহায্য বা প্ররোচনা দিয়েছে কি নাতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পুনর্গঠনও করে ফেলেছে তদন্তকারী দল। ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রত্যেক অভিযুক্তকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরনে থাকা ও অভিযুক্তদের ব্যবহৃত জামাকাপড় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘটনাস্থলের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ।
নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই জবানবন্দিতেই উঠে এসেছে সহপাঠীর নাম। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনটিও অভিযুক্তরা কেড়ে নেয় এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়, যাতে বিষয়টি কাউকে জানানো না হয়।
এই ভয়াবহ ঘটনার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশ দাবি করেছেন, কলেজ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। অপরদিকে, পুলিশ জানাচ্ছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা প্রশাসনের গাফিলতি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নজরে রেখেছেন বলেই জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র। তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
ভিডিও দেখুন-
