সন্তোষ মন্ডল, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের চাঞ্চল্যকর আইকিউসিটি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণ মামলায় এল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দিতে সাক্ষ্য দেন নির্যাতিতা ছাত্রী। নির্যাতিতার সহপাঠী সহ বাকি পাঁচজনকেও পেশ করা হয় আদালতে। পাশাপাশি ফের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে নির্যাতিতার, এবং শনিবার আবারও তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে হবে জানিয়েছেন নির্যাতিতা পক্ষের আইনজীবী। সত্যের উন্মোচন হবে বলে আশা রাখছে দুই পক্ষই।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন শনিবার ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগকারিণীর আইনজীবী পার্থ ঘোষ জানান, নির্যাতিতার সাক্ষ্য মামলাটিকে দ্রুত বিচারের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, শুক্রবার নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং শনিবারে আবারও পরীক্ষা করা হবে হবে আদালতের নির্দেশ। এদিন আদালতে নির্যাতিতার সহপাঠী সহ বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে আদালতে নির্যাতিতার সামনে পেশ করা হয়। পুলিশ আদলতের কাছে চার্জশিট জমা দিয়েছেন এবং চার্জফ্রেম তৈরি করা হয়েছে বলে জানান নির্যাতিতা পক্ষের আইনজীবী পার্থ ঘোষ। ঘোষের কথায় এটি যে গনধর্ষণ তা প্রমাণিত। তিনি আরও জানান, নির্যাতিতা বয়ানে কি বলেছে তা এখন জনসম্মখে আনা যাবে না। মামলার রায়ের সবই জানানো হবে বলে দাবী নির্যাতিতার আইনজীবী। নির্যাতিতাঁর জবানপবন্দীর পর সত্য সামনে আসবে তা আশা রাখছেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, মামলার ট্রায়াল চলছে এবং বয়ানে কোনও অসঙ্গতি নেই। তদন্ত স্বার্থে নতুন কোনো তথ্য খতিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী। তিনি আরও বলেন নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই সত্য সামনে আসবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর অক্টোবর মাসে আইকিউসিটি মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীর উপর গুরতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে শিল্পশহর দুর্গাপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃত্বীয় বর্ষের ঐ ছাত্রী সন্ধ্যে বেলায় এক সহপাঠীর সঙ্গে খাবার আনতে গিয়ে কলেজ চত্ত্বরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যৌণ নির্যাতবের শিকার হন। নির্যাতিতার অভিযোগ অনুসারে প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে তদন্তের অগ্রগতি হলে সহপাঠির নামও উঠে আসে এবং তাকেও গ্রেফতার করে দুর্গাপুর পুলিশ।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালতের রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচারকের সামনে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয়। পরিচয় গোপন রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত চত্বরে পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শনিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এখন পরবর্তী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা শহর।
