নিজস্ব সংবাদদাতা : পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে একটি জলসায় ২ জনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় সোমবার সকাল থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা ১২ ঘণ্টার খেজুরি বন্ধে বিক্ষিপ্ত অশান্তি দেখে গেল। বন্ধকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি।সকালে বাঁশগোড়া এলাকায় কর্মীরা পথ অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। বন্ধ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল বচসা শুরু হয় এবং পরে তা ধস্তাধস্তিতে গড়ায়।
বনধ সমর্থকরা দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন খেজুরি-হেঁড়িয়া রাজ্য সড়ক। এতে ব্যহত হয় যান চলাচল। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খেজুরির জোড়া মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই এই বন্ধ ডাকা হয়েছিল। প্রথমে তা অরাজনৈতিক বলা হলেও পরে তা পুরোপুরি চলে যায় বিজেপির হাতে। যার নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় বিজেপির অভিযোগ, ‘এই মৃত্যু পরিকল্পিত খুন, প্রশাসন প্রকৃত দোষীদের আড়াল করছে।’ এই বনধে রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি সামনে আসায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। বাঁশগোড়ায় ট্রাক ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বন্ধো সমর্থকদের বিরুদ্ধে। জোর করে বন্ধক করানোর চেষ্টা করার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঁথির এসডিপিও।

খেজুরি বিদ্যাপীঠের কাছে ফলের পেটি রেখে হেঁড়িয়া-খেজুরি রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বনধ সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে এই নিয়ে তুমুল বচসা শুরু হয়। পরে এসডিপিও-র হস্তক্ষেপে ৪ ঘণ্টা পর অবরোধ তোলা হয়। বনধের ফলে সকাল থেকে খেজুরিতে দোকানপাট বন্ধ, শুনশান রাস্তা। খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিকের নেতৃত্বে মিছিল বেরোয় এলাকায়। উত্তেজনার আবহ থাকায় এলাকাজুড়ে পুলিশের কড়া নজরদারি দেখা যায়। বেলার দিকে খেজুরির জনকা থেকে বিদ্যাপীঠ পর্যন্ত পদযাত্রা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
খেজুরির দুই ব্যক্তির খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ময়না তদন্তের টানাপোড়েনের জেরে তাদের মৃতদেহ পেতে দেরী হচ্ছে। শেষ্পর্যন্ত রবিবার তমলুক জেলা হাসপাতালে মৃত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত হয় বলে জানা গেছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় সোমবার ১২ ঘণ্টা খেজুরি বন্ধের ডাক দেয় স্থানীয়রা। বনধের আওতা থেকে প্রথমেও জাতীয় সড়ক ছাড় দেওয়া হলেও, সোমবার সকাল থেকে চিত্রটা বদলে যায়। রবিবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, সোমবার তিনি খেজুরির জনকায় মিছিল করবেন। সেইমতো এদিন তিনি মিছিলে সামিল হন।
উল্লেখ্য, খেজুরির পশ্চিম ভাঙ্গনমারিতে জলসা দেখতে গিয়ে মৃত্যু হয় ওই দুই ব্যক্তির। সুজিত দাস, বয়স ২২ ও সুধীর পাইক বয়স ৬৫ দুজনেরই মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে শনিবার দিনভর উত্তাল ছিল খেজুরি। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে ১৭ জনের বিরুদ্ধে । পুলিশ জানিয়েছে, এই জোলশা সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনো খবর ছিল না। সাংবাদিকদের কাছে এই নিয়ে ইন্টেলিজেন্সের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন স্থানীয় পুলিশকর্তা। থানা সূত্রে জানা গেছে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
