আমজাদ আলি শেখ, পূর্ব বর্ধমান : ছট পুজো, যা মুলত ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মানুষেরা করে থাকে। এই পুজোর সাধারণত পরিবারের সন্তানদের মঙ্গলের জন্য মায়েরা করে থাকেন, সূর্যদেবের পাশাপাশি ষষ্টি দেবীরও পূজো হয়ে থাকে। সারাদিন কঠোর উপোষ করে বিকালে করা হয়ে থাকে। এই পুজো কে কেন্দ্র করে ডোল নেমেছে দামোদর নদীর তীরে। এখানে আগত একজন দর্শনার্থী বলেছেন, ‘আজকের দিনটা দারুণ, এটা কোন পূজো নয় আমাদের ইমোশোন। খুবই ভালো লাগছে সকাল সকাল এসে আড়াগ হল। এটা চারদিনের পুজো, কিন্তু একদিন সন্ধে ও ভোরবেলায় আড়াগ দেওয়া হয়’। একই সঙ্গে তিনি মানুষের উৎসাহকে উল্লেখ করে বলেছেন, বলেছেন, “ মানুষের হয়তো ভগবানের প্রতি আস্থায় ভাটা পড়েছিল। আনন্দের কথা সেই আস্থা আবার ফিরে এসেছে, তাই এত সমাগম।”
ভক্তদের ভিড় মোকাবিলায় সতর্ক প্রশাসন। যানজট এবং যে কোনো ধরনের দূর্ঘটনা কিংবা নাশকতা রুখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও জেলা বিপর্জয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের পক্ষ থেকে। ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। দামোদর নদের জল বাড়তি থাকার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম রাখা হয়েছে নজরদারির জন্য।

শুধু বর্ধমান শহরের সদরঘাটি নয়, বাঁকা নদীর ধারে আরও বেশকিছু ঘাট রয়েছে। তার মধ্যে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ভাতছালা ঘাট, ২১ নম্বর ওয়ার্ড পাশি খানা সূর্যনগর ঘাট, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আলামগঞ্জ কল্পতরু মাঠের ঘাট, আলামগঞ্জ মাটির বাগ ঘাট, ইদিলপূর দামোদর নট ঘাট, একটি জায়গার ব্যবস্থাপনায় চোখে পড়ার মতো। তবে তার মধ্যে অন্যতম বর্ধমান সদরঘাট দামোদর নদের ছট পুজোর ঘাট। কারণ তাঁদের এই এই বছরে ২৫ তম বর্ষে পদার্পণ করছে।

এছাড়াও সদর ঘাটে বর্ধমান ছট পূজা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাপনা। ভক্তরা যাতে ঘাটে এসে কোনরকম সমস্যার সম্মুখীন না হয় তার জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশাসন ও ছট পূজা ওয়েলফেয়ার কমিটির পক্ষ থেকে করা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প। পুজো দিতে এসে কোনরকম পুজোর সামগ্রী দরকার হলে তারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফল থেকে শুরু করে দুধ সমস্তটাই মিলবে ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কমিটির কাছ থেকে।
ছট পুজো ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোক্তা গির্জা শংকর গুপ্তা বলেন, “শুধু বর্ধমান শহর বা জেলার মানুষ এখানে আসেন তা নয়, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন ছট পুজো উপলক্ষ্যে। যত দিন যাচ্ছে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এ বছরও ভক্তদের আগমনে খামতি হয়নি।
জাগরণী থেকে আগত দর্শনার্থী সুদীপ্তা দে বলেছেন, “যারা এই পুজো করে তারা খুব নিষ্ঠার সাথে করে…… এই পুজোতে এসে তাঁর খুব ভালো লাগছে। আমরাও মেতে উঠেছি। এখন সব পুজো পার্বণেই বাঙালিরা আছে।” তিনি আরও বলেছেন, ”রোজ রোজ তো ভোরে ওটা হয় না একটা স্পেশাল দিন ধরে ওঠা হল, চারিদিকে এত গাণ বাজনা, বাজি ফাটানো ভীষণ মজা লাগছে।”

উদ্যোক্তারা জানিয়েছে, প্রশাসন পুরোপুরিভাবে সহযোগিতা করছেন। তাদের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এত বড় একটা আয়োজন কোনোভাবে সম্ভব হত না। তাই প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে ছট পুজোর উদ্যোক্তারা। তাঁরা জানিয়েছেন, সব সময় তাঁরা তৎপর রয়েছি। এখন থেকে শুরু করে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত আমরা এখানে উপস্থিত থাকবো কোন রকম কারোর অসুবিধা হলে আমরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।অন্যদিকে পুজো দিতে আসা ভক্তরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক বছরই এরকম ব্যবস্থাপনা করা হয় যা অন্য কোথাও এরকমভাবে হয় না।
