স্পোর্টস ডেস্ক : এগিয়ে থেকেও পারলো ইস্টবেঙ্গল। আম্মান স্টেডিয়ামর মাঠে জর্ডনের চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও সেই লিড খুইয়ে ২ গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল যেভাবে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করল, তাতে এই উপমা ছাড়া আরপ কিছু মাথায় আসছে না। অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে যেখানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এসে প্রতিবেশী ক্লাবের কর্তা ও সমর্থকদের মনে জ্বালা ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল লাল হলুদ বাহিনীর সামনে, সেখানে ২-২ ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আক্ষেপটাই বেশি থাকছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। তার জন্য ইস্টবেঙ্গলের পুরো শক্তি নিয়ে খেলতে না পারা, চোট, ফিটনেস ও ক্লান্তি সমস্যা কিছুটা হলেও দায়ি।বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু ব্রিগেড। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ বজায় থাকলেও আল হুসেইনের ফুটবলাররা মরিয়া হয়ে ওঠেন গোল করে ব্যবধান কমাতে। ৬১ মিনিটে গোল পেয়েও যায় তারা লাল হলুদ রক্ষণের ভুলে। সন্দীপ মান্ডির নড়বড়ে ভাবের কারণে মামুদ আলদীব ইস্টবেঙ্গল বক্সের বাঁদিকে বল কেড়ে নিয়ে তা বাড়িয়ে দেন আল মারদির উদ্দেশ্যে। আল মারদি বল ধরে ইস্টবেঙ্গলের রশিদকে টপকে তা গোলের ভেতর পাঠান গোলকিপার প্রভুসুখন গিলের পাশ দিয়ে।
এই গোলটা বাড়তি অক্সিজেন ও উৎসাহ জোগায় আল হুসেইন শিবিরকে। তারা দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ওপর প্রবলভাবে। শেষ ১৫ মিনিট চাপটা এত বেশি ছিল, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ সংগঠনের জমাট ভাবটা নষ্ট হয়ে যায়। ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার হাবাসের সম্ভবত মনে হয়েছিল, দলের ফুটবলারদের মধ্যে ক্লান্তি ভর করেছে। আর তাই তিনি একসঙ্গে অনেকগুলো পরিবর্তন করেন দলে। জয় গুপ্তা, দানি রামিরেজ, এডমুন্ড লালরিনডিকাকে তুলে নিয়ে হাবাস নামাই রোহিত দানু, রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ ও ডেভিডকে। কিন্তু রোহিত, রেনিয়ার, ডেভিডরা এখনও আন্তর্জাতিক ম্যাচের মঞ্চে চাপ নেওয়ার মতো তৈরি নন, সেটা বোঝা গেছে কিছুক্ষণের মধ্যে। তাঁরা আল হুসেইনের ফুটবলারদের শেষদিককার তীব্র গতি ও আক্রমণের ঝাঁজের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। রশিদ পিঠের ব্যথা সহ্য করেই খেলতে নেমেছিলেন। গোটা ম্যাচটায় লড়লেন ঠিকই, তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, তাঁর ফিটনেস সমস্যা নজর টেনেছে।
সবমিলিয়ে শেষ ৫ মিনিটে মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে তৈরি হওয়া বাঁধুনি আলগা হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজ লাগিয়ে ৮৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর মূল্যবান গোলটা তুলে নেয় আল হুসেইন। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ওবেদা আল নামারনার ক্রশ আর এক বদলি খেলোয়াড় আমাদ আসাফ লাল হলুদের গোলে পাঠান ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে। তৃতীয় গোলের জন্য আরও একটা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন আল হুসেইনের ফুটবলাররা। তবে সেই প্রচেষ্টা তাঁদের সফল হয়নি। ঘরের মাঠে হারা ম্যাচ ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে স্বস্তি পেয়েছে আল হুসেইন।
ইস্টবেঙ্গলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র পরের প্রতিপক্ষ ইরাকের আল শোরতা যুবভারতীতে ১৩ অক্টোবর।