ওঙ্কার ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়ায় আধারকে গ্রহণ করার জন্য। সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে অবশেষে বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-কে আধার গ্রহণ করার জন্য নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এত দিন ১১টি নথি এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য ছিল, কিন্তু সেই তালিকায় আধার যোগ হওয়ায় প্রামাণ্য নথির তালিকা দাঁড়াল ১২ টিতে।
নয়া নির্দেশিকায় নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আধারকে কেবলমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে আধারের কোনও বৈধতা নেই। উল্লেখ্য গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়ে বলেছিল, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তবে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণের জন্য কমিশনকে নির্দেশিকা জারি করতে হবে। শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জমা দেওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারবে। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধার আইন অনুসারে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তবে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট’-এর ধারা ২৩(৪) অনুযায়ী, এটি ব্যক্তির পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে রয়েছে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সে রাজ্যের ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে ১১টি নথির তালিকা দেওয়া হয়। সেই ১১টি নথির মধ্যে কোনও একটি নথি দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করার কথা বলা হয়। ইতিমধ্যে কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত আধারকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়।
