নিজস্ব সংবাদদাতা : পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোসকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করল ইডি। তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে বহু কোটি টাকার পৌরসভা নিয়োগ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজিত বোস সোমবার সকালে বিধাননগরে ইডি-র অফিসে হাজিরা দেন। প্রায় ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এবার তাঁর নিজের কেন্দ্র বিধাননগর থেকে পরাজিত হন। এর আগে তাঁকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি ডেকে পাঠায়। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ভোট অবদি তিনি পরিত্রাণ পান। কিন্তু ভোট মিটতেই তাঁকে ইডির ডাকে সাড়া না দিয়ে আর উপায় ছিল না। সেই মতো সোমবার সকালে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে যান। শুরু হয় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবা। অবশেষে এদিন রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে হেফাজতে নেয় ইডি।
সকাল সাড়ে দশটার দিকে বোস তাঁর ছেলে সমুদ্র বোসকে সঙ্গে নিয়ে সল্ট লেকের ইডি-র সিজিও কমপ্লেক্স অফিসে পৌঁছান। একই মামলায় সমুদ্র বোসকেও তলব করা হয়েছিল। এর আগে, এই তৃণমূল নেতা ১ মে এবং ৪ মে ইডি অফিসে হাজির হয়েছিলেন। তখন উভয় ক্ষেত্রেই, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের শেষে ইডি তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। সোমবার এই মামলায় তাঁকে পুনরায় জেরা করা হয়।
এর আগে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ইডি আধিকারিকরা সুজিত বোসের বাড়ি, অফিস এবং ভিআইপি রোডের কাছে তাঁর ছেলের ধাবা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালায়। এর আগে নির্বাচনকালীন সময়ে ইডি-র কার্যকলাপের সমালোচনা করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “সুজিত বোসের অবস্থা এতটাও খারাপ নয় যে তাঁকে টাকা রোজগারের জন্য চাকরি বিক্রি করতে হবে। মানুষ তা জানে। এটা নির্বাচন কমিশন এবং ইডি-র একটি ষড়যন্ত্র।”
‘স্কুলের চাকরির জন্য টাকা’ কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত আরেকটি অর্থ পাচার মামলার সূত্রে তৃণমূল ঘনিষ্ট প্রোমোটার অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা প্রথম বহু কোটি টাকার পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিষয়ে তথ্য পান। পরে, কলকাতা হাইকোর্টের একটি আদেশের পর সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনও পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিষয়ে একটি সমান্তরাল তদন্ত শুরু করে। দুটি কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য মন্ত্রী এবং শাসক দলের নেতাসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে।