ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক স্থানে আজ সকাল থেকেই গোটা দিন ধরে চলেছে তল্লাশি। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি, কয়লা ব্যবসায়ীদের এবং ঠিকাদার গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চলছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল ও পুরুলিয়া থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদসহ কয়েকটি জেলায়। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়লা খনি থেকে শুরু করে পরিবহন-প্রক্রিয়া, বিক্রয় লেনদেন এই পুরো চক্র খুঁজে বের করতে এই অভিযান।
তল্লাশিতে কয়লা ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের অফিসে কাগজপত্র ও ডিজিটাল রেকর্ড খুঁজছে ইডি। অফিস, বাসস্থান, ট্রান্সপোর্টিং ইউনিট সব জায়গায় ঘুষ-কালোবাজারি ও অবৈধ লেনদেনের চিহ্ন মেলানোর চেষ্টা করছে। অনুমান করা হচ্ছে, ঠিকাদাররা খনিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর খোদ কয়লা উত্তোলন সত্তা বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগসূত্র রেখে অধিক পরিমাণে উৎপাদিত কয়লা সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করে এবং সেই টাকা পরে বৈধ করার জন্য বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র–শ্রুতিযোগ্য স্থানে লুকিয়ে রাখে।
অধিকাংশ অভিযানে নগদ অর্থের বান্ডিল, সোনামুদ্রা, ব্যাগ ভর্তি রসিদহীন লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি একটা ক্রমবর্ধমান অর্থপাচার চক্রের অংশ। “দীর্ঘদিন ধরে ধরা হয়নি বলে তারা একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছিল,” এক কর্মকর্তা জানান। এছাড়া কয়লার পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও ডাম্পারগুলোর রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় কতটা ট্র্যাকিং ছাড়া পরিবহন হয়েছে। ওই সময় শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দলিলও তল্লাশি হয়েছে।
এই অভিযান স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকেও এক ধাক্কা দিয়েছে। কয়লা ব্যবসার সাথে বহুবার রাজনৈতিক সংযোগের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। এই মুহূর্তে ইডি-র অভিযান সেই অভিযোগকে বাস্তবতায় পরিণত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
