ওঙ্কার ডেস্ক: বালি পাচার মামলায় ফের বড়সড় পদক্ষেপ নিল ইডি। সোমবার ভোর থেকে কলকাতা ও জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের একাধিক ঠিকানায় ইডি আধিকারিকরা একসঙ্গে হানা দেন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। রীতিমতো কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতেই রাজ্যের নানা প্রান্তে দল ভাগ হয়ে রওনা দেন তদন্তকারীরা। সোমবার ভোরেই প্রায় একই সময়ে অভিযান শুরু হয় কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং ঝাড়গ্রামের একাধিক জায়গায়। কলকাতার বেহালার একটি ঠিকানায় ও রিজেন্ট কলোনির একটি বাড়িতেও ইডি হানা দিয়েছে। যদিও ঠিক কোন কোন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চলছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে। সেখানকার বাসিন্দা শেখ জহিরুল আলির বাড়িতেও সোমবার সকাল থেকে চলছে তল্লাশি। জানা গিয়েছে, সুবর্ণরেখা নদীর পাড়ে তিনতলা বাড়ি রয়েছে তাঁর। স্থানীয় সূত্রে খবর, আগে ভিলেজ পুলিশ ছিলেন জহিরুল। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দেন এবং বালির ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর একাধিক বালি খাদান রয়েছে বলে অভিযোগ। এ দিন ভোরেই ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শুধু বাড়িই নয়, জহিরুলের গাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। বিপুল পরিমাণ নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের দাবি, ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট ছয়টি জায়গায় একযোগে অভিযান চলছে। ইডির এই তল্লাশি অভিযানে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বহুদিন ধরেই এলাকায় বেআইনি বালি ব্যবসা চলছিল। সেই ব্যবসার সঙ্গে কারা কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতেই ইডি নেমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অভিযানে নতুন করে কারও নাম উঠে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে একাধিক জায়গায় একযোগে ইডির তল্লাশি বালি পাচার কাণ্ডে তদন্তকে নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
