নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এদিন ভোরে আসানসোলের বরাকর হনুমান চড়াইয়ে শিল্পপতি অনিল আগরওয়ালের বাড়িতে হানা দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতা, উত্তরপাড়া, হাওড়া ও আসানসোলে আরও চার জায়গায় অভিযান চালায় ইডি।
প্রথম ঘটনায় আসানসোলের হনুমান চড়াইয়ে জয় শ্রী গ্রুপের মালিক সোনু আগরওয়ালের ভাই অনিল আগরওয়ালের বাড়িতে ভোর ৬টা নাগাদ পাঁচটি গাড়িতে করে পৌঁছায় ইডির দল। সঙ্গে ছিলেন মহিলা আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। সূত্রের খবর, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি এবং অবৈধ কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় এই হানা। সোনু আগরওয়াল, লালা-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। অভিযানের সময় বাড়ির আশপাশে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা পর দুটি গাড়ি বেরিয়ে গেলেও বাকি তিনটি গাড়ি দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।
অন্যদিকে একই দিনে ২৮০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় রাজ্যের চার জায়গায় হানা দেয় ইডি। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির নামে ব্যাঙ্ক কনসোর্টিয়াম থেকে ২৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয় ‘কোহিনুর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড’ (KPPL)। সেই টাকা ভুয়ো শেল কোম্পানির মাধ্যমে কলকাতায় পাচার করা হয় অভিযোগ।
এই মামলায় এদিন কলকাতার লেকটাউনের অভিজাত আবাসন অবনী অক্সফোর্ড ফেজ-১-এ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির বাড়িতে এবং হুগলির উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে আর এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চলে। ইডি জানিয়েছে, মোট আটটি ঠিকানায় অভিযান চলছে, যার মধ্যে কোম্পানির ডিরেক্টর, অডিটর ও রেজোলিউশন প্রফেশনালদের বাড়িও রয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের (SFIO) অভিযোগের ভিত্তিতে।