স্পোর্টস ডেস্ক : বাঙালির বিশ্বকাপ জয়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামীর যা নেই তাই করেছেন শিলিগুড়ির রিচা ঘোষ। বয়স ২২ তাতেই অনুর্ধ ১৯ আর সিনিয়র বিশ্বকাপ জয়। মহেন্দ্র সিং ধোনির মত যেমন বড়ো হিট করতে পারেন তেমন ফিনিসিং হরমনপ্রীতরা ইতিমধ্যেই রিচাকে মাহি নামে ডাকতে শুরু করেছেন। এরপর হয়ত ভারতীয় দলের অধিনায়িক হবেন। ২২ এর রিচা কোথায় থামবে কেউ জানে না। সেই রিচাকে সংবর্ধনা দিলো সিএবি। বলা ভালো সিএবি সর্বকালীন গর্বের মুহূর্ত খোদাই করে রাখলো।
এদিন ইডেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষকে জমকালো সংবর্ধনা দিল সিএবি। সেই সঙ্গে গুচ্ছ উপহার পেলেন বিশ্বজয়ী। চমকপ্রদভাবে রিচাকে বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত করল রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে সিএবির তরফে তাঁকে ৩৪ লক্ষ টাকা এবং সোনার ব্যাটও উপহার দেওয়া হয়েছে। এসবের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিএসপি পদে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, সিএবি সভাপতি তথা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামী ছিলেন। রিচার উঠে আসার পেছনে ঝুলন গোস্বামীর অবদান প্রবল।
ঝুলন বললেন, “২০১৩ সালের কথা। সেই বছর আমরা ভালো খেলতে পারেনি। তখন আমি সিএবি সেক্রেটারি বিশ্বরূপ দে, গৌতম স্যর, বাবলু স্যরকে জিজ্ঞেস করি আমরা কি ডিস্ট্রিক্টে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম করতে পারি ? তাঁরা সম্মতি দেন। সেই সূত্রেই রিচাকে দেখা। শিলিগুড়িতে অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ওকে দেখি। ফিরে এসে সিএবি’তে ওর কথা বলি। ওর বয়সি এমন প্রতিভাবান ক্রিকেটার কাউকে দেখিনি। এরপর ও বাংলায় সুযোগ পায়। সেই সময় সৌরভ স্যর প্রেসিডেন্ট, অভিষেক স্যর সেক্রেটারি। আমি বলি, রিচাকে সিনিয়র দলে নিতে চাই। তখন ও অনেকটা ছোট। আমি কিন্তু সমর্থন পেয়েছিলাম। তারপর বাকিটা তো ইতিহাস। একের পর এক জয় পেয়েছে। ট্রফি জিতেছে। গত ৪৭ বছর ধরে ভারতীয় মহিলা দল যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা আজ পূরণ করল রিচা, হরমন, স্মৃতিরা। ওদের ধন্যবাদ। রিচার জার্নি সবে শুরু। অনেকটা পথ চলতে হবে ওকে।”

এরপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আগে মহিলাদের ক্রিকেট অর্থনৈতিকভাবে এত ভালো জায়গায় ছিল না। কয়েক বছর আগে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, মহিলাদের ক্রিকেটকেও সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনটে আইসিসি ইভেন্টে ক্যাপ্টেন ছিলাম আমি। কিন্তু কখনও বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। তুমি বিশ্বকাপ জিতে এসেছ। রিচারা যখন চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এক কথায় রাজি হয়ে যান। রিচা ভারতীয় দলে যে রোল প্লে করে, সেটা খুবই কঠিন। কারণ ছয় নম্বরে নেমে কম বল পাওয়া যায়। কঠিন কাজটা ও সহজভাবে করে এসেছে। তোমার কেরিয়ার সবে শুরু। আরও অনেক খেলার সুযোগ পাবে। তোমাকে আমাদের তরফ থেকে অভিনন্দন। ভারতীয় দলে ওর মূল্য স্মৃতি, হরমনদের চেয়ে কম কিছু নয়। আমরা যেন কোনও একটা দিন বলতে পারে রিচা, ভারত অধিনায়ক।”
লাজুক রিচা বললেন, এভাবে এগোতে চাই। সৌরভ স্যার, ঝুলন ম্যাডাম সবাইকে ধন্যবাদ। ‘
জানা গেল, নব্বইয়ের দশকে দিল্লিতে পুরুষ ও মহিলা সাংসদদের নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিচায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওর বয়স অল্প। ওকে মানসিক চাপ দিও না। ভালোবাসা দিয়ে বাংলা ও বিশ্ব জয় করবে ও। মনের শক্তিই সবথেকে বড়। নিজের কাজ নিজেকে করে যেতে হবে। দুর্গমকে জয় করে শীর্ষে পৌঁছতে হবে। লড়তে হবে, করতে হবে, খেলতে ও জিততে হবে।”
