চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে
স্মরণাতীত কাল ধরে কলকাতা সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলের পুজোগুলোতে স্ট্যাটাস বড্ড সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিল। পুজো সর্বজনীন হলেও, বড়সড় প্যান্ডেলগুলিতে আলোকিত হয়ে আসছেন এলিট ক্লাস। যার পোশাকি নাম ভিআইপি। পুজো কমিটিগুলোও ব্যস্ত থাকে তাঁদের সমাগম নিয়ে। তাঁদের আপ্যায়ন নিয়ে। নিরাপত্তা, নির্ঝঞ্ঝাটে মণ্ডপ পরিদর্শন, তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশন, ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন- এসবই যেন পুজো কমিটিগুলির কাছে অনিবার্ প্রথা হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে পুজো কমিটিগুলির বাণিজ্যিক সাফল্য। এতে যে যত টেক্কা দেবে তার জমিদারি তত। এই নব্য মূল্যায়ন অনেকদিন আগেই বুঝে গিয়েছে পুজো উদ্যোক্তারা। যেহেতু, দুর্গাপুজো এখন একটা শিল্প। মোদ্দা কথায় বাণিজ্য। একে আবার উস্কে দিয়েছে সরকারি খয়রাতি। যে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন চলে তার উৎসই তো প্রধানত এই ভিআইপি ক্লাস। তাদের প্রভাব এবং সুনাম দুটোই বড় লক্ষী লক্ষী। রয়েছে সেলিব্রিটিদের সমাদরও।
এসব নিয়েই তো উদ্যোক্তাদের পুজোর চারদিন। আত্মগৌরবের প্রচেষ্টা। যে লক্ষ লক্ষ দর্শণার্থীরা আসেন, তাঁরা তো সাধারণ মানুষ। বেনোজলে আর নজর কে দেয়। হয়তো এই নেকনজরই অভিশাপ হয়ে উঠলো। আর তার বদ্ধভূমি হল চোরাবাগান। পুজো কমিটির নিন্দনীয় গাফিলতিতে ঝরে গেল এত প্রাণ। কে তার দায় নেবে ? যারা আয়োজক, তারা ? নাকি যারা আয়োজন করার সিলমোহর দিয়েছে, তারা ? কেঁচো খুঁড়তে সাপ হয়তো বেরোবে। কিন্তু সাপারেই যেখানে বাণিজ্যের অধিষ্ঠাত্রী, তার ফল কী হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষায় থাকে না। সবই তো সেই স্ট্যাটাস। যে প্রবণতা এতদিন ধরে ফুলেফেঁফে ক্ষমতার অলিন্দ হয়ে উঠেছে, তার অপারেশন কী সম্ভব ? এই ঘটনার পর সরকারের টনক নড়েছে। বিধিনিষেধ আরোপ হচ্ছে। আর সেই প্রবাদ মনে পড়ছে- চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। বিপদের আগে যে আর কবে বুদ্ধির জাগরণ হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।