ওঙ্কার ডেস্ক : বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল জবাব শুরু হতে চলেছে। এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সোমবার মামলাগুলি গৃহীত হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার একসঙ্গে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। বিহারে চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে। তার আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটারদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে নিজের ও বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। তবে আধার কার্ড বা রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় তিন কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
মহুয়া মৈত্র সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, এই নির্দেশ ভারতের সংবিধানের ১৪, ১৯ (১), ২১, ৩২৫, ৩২৬ ধারা ও জনপ্রতিনিধি আইন লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেছেন, ‘‘যাঁরা এত দিন ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে নথি দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।’’ পাশাপাশি, যাতে এ ধরনের নির্দেশ অন্য কোনো রাজ্যে না জারি হয়, তারও স্থগিতাদেশ চেয়েছেন তিনি। মহুয়ার পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR), পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (PUCL), আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও কমিশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালতে মহুয়ার পক্ষে লড়ছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সিইউ সিংহ। আরজেডির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন কপিল সিব্বল।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁদের জন্য নতুন করে কোনও প্রমাণপত্র প্রয়োজন নেই। তবে যাঁদের নাম নেই বা জন্ম ১৯৮৭ সালের আগে, তাঁদের জন্মের শংসাপত্র দিতে হবে। ১৯৮৭ থেকে ২০০৪-এর মধ্যে জন্ম হলে বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত এক জনের জন্মের প্রমাণপত্র প্রয়োজন। ২০০৪-এর পরে জন্ম হলে নিজের ও বাবা-মায়ের দু’জনের জন্মের শংসাপত্র দিতে হবে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে, এখনও বিহারের নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি, ফলে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে নথি জমার শর্তের তেমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিরোধী পক্ষের যুক্তি, ২৫ তারিখের মধ্যে প্রমাণপত্র না দিলে নাম বাদ যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
এখন দেশের নজর বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে। জানা যাচ্ছে, কংগ্রেস-সহ আরও কয়েকটি বিরোধী দল কমিশনের এই নির্দেশ বাতিল চেয়ে পৃথক মামলা করতে পারে। ইতিমধ্যেই মহুয়া মৈত্র সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বিহারের এসআইআর মামলা সুপ্রিম কোর্টে গৃহীত হয়েছে, নোটিস জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানি। সত্যমেব জয়তে।’’ আগামী কয়েক দিনে এই মামলার রায় কী দাঁড়ায়, তার উপরই নির্ভর করবে বিহারের আসন্ন বিধানসভা ভোটের অনেক কিছু।
