ওঙ্কার ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবের নাম বাদ পড়েছে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিহারের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার নিজেই এই অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। অভিযোগ আসতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। পরে কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া, তেজস্বীর দাবিতে তথ্যগত ভুল রয়েছে। তেজস্বীর দাবি খারিজ করে কমিশন জানিয়েছে, ক্রমিক নম্বর ৪১৬-তে নাম রয়েছে তাঁর। তাই তেজস্বীর দাবিকে মিথ্যা বলে জানানো হয়েিছে কমিশনের তরফে। কমিশনের দেওয়া তালিকায় তেজস্বীর এপিক নম্বর আরএবি০৪৫৬২২৮। অথচ সাংবাদিক বৈঠক করে এই অভিযোগ জানাতে গিয়ে তেজস্বী জানিয়েছিলেন তাঁর ভোটার কার্ডে থাকা এপিক নম্বর আরএবি২৯১৬১২০।
সাংবাদিক বৈঠকে তেজস্বী দাবি করেছেন, এই বছর নির্ধারিত বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার এক মাস ধরে যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চালানোর পর বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। তেজস্বীর প্রশ্ন, “আমার নাম ভোটার তালিকায় নেই। আমি কীভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব ?” তেজস্বীর এই অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, তেজস্বী যাদবের নাম খসড়া তালিকায় আছে, যা ৪১৬ নম্বর ক্রমিক নম্বরে তালিকাভুক্ত।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী কারচুপির পৃথক অভিযোগের জবাব দিতে নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই বিতর্ক শুরু হয়। তেজস্বী বলেন, “প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৫ লক্ষ ভোটার, অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৮.৫ শতাংশের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখনই কোনও বিজ্ঞাপন জারি করত, তখনই উল্লেখ করা হত যে অনেক লোক স্থানান্তরিত হয়েছে, অনেকেই মারা গেছেন এবং অনেকের নাম ডুপ্লিকেট ছিল… কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের যে তালিকায় দিয়েছে, সেখানে তারা চালাকি করে কোনও ভোটারের ঠিকানা, কোনও বুথ নম্বর এবং কোনও EPIC নম্বর দেয়নি, যাতে আমরা জানতে না পারি যে ভোটার তালিকা থেকে কার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে”। এমন কি, সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল থেকে তার তথ্য উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে বিহারের সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। দেখা যায়, ওই তালিকায় বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষের বেশি নাম। বাদ পড়া তালিকায় রয়েছে মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভোটার তালিকায় থাকা একাধিক ঠিকানার ব্যক্তিদের নাম। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম ছিল প্রায় সাত কোটি ৯০ লক্ষ। এসআইআর-এর পর তা কমে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ২৪ লক্ষে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, পাটনায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা সার্বাধিক, ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার। এররই রাজ্য জুড়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশন বিজেপির কথায় ‘ভোট চুরি’ করছে। এ ছাড়াও,ভোটাধিকার যাচাইয়ের জন্য কমিশন যে সমস্ত নথি চেয়েছে, সেই তালিকায় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বা রেশন কার্ডের মতো সহজলভ্য নথি রাখা হয়নি। এই নিয়ে সোচ্চার হয় বিরোধীরা। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও ওঠে। সেই মামলা এখনও চলছে। সেখানেও সুপ্রিম কোর্ট বনাম নির্বাচন কমিশনের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় তেজস্বীর অভিযোগ আগুনে ঘৃতাহুতির জায়গায় গিয়ে পৌঁছোয়। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে ত্রুটি সামনে আসে।
