ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে পুজোর পর থেকেই শুরু হবে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রাজধানীতে ডাকা হয়েছিল রাজ্যগুলির চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারদের বৈঠক। সেখানেই কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ভোটার তালিকার অখণ্ডতা বজায় রাখতে এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এসআইআর সাংবিধানিক কর্তব্য।
বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যের সিইওদের বলা হয়েছে, তারা যেন নিজ নিজ রাজ্যের বর্তমান ভোটার তালিকার অবস্থা, সর্বশেষ সংশোধনের সময়কাল, বুথ লেভেল অফিসারদের প্রস্তুতি, নতুন বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা ও ডিজিটাইজেশনের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। কমিশনের তরফে নির্দেশ এসেছে, যাতে উৎসব মরশুম শেষ হলেই দেশজুড়ে একযোগে তালিকা সংশোধন শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বিহারে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পুজোর পর অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতেও কার্যক্রম কার্যকর করা হবে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসআইআর কার্যক্রম মাত্র কয়েক মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, “ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে কমপক্ষে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। এটি তড়িঘড়ি করে করার চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে।” পাশাপাশি তিনি এই প্রক্রিয়াকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির ছায়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এর ফলে বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ দেশের ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই কমিশন দ্রুত এই পদক্ষেপ চাপিয়ে দিচ্ছে।
পুজোর পর শুরু হতে চলা এসআইআরকে কেন্দ্র করে এখনই চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। একদিকে কমিশনের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে রাজ্যের আপত্তি আগামী দিনে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নতুন বিতর্কের আঁচ মিলছে দেশের রাজনীতিতে।
