কুশল চক্রবর্তী
“ইমামি” কোম্পানি ঘোষণা করল তারা আগামী পাঁচ বছরে বিদেশী বাণিজ্যে এক দারুণ পরিবর্তন আনবে। তাদের কোম্পানির উৎপাদিত নানা উন্নত পণ্যগুলো কিনা বিদেশের বাজারে আরও বেশী গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। তার জন্য তারা আরও উচ্চ মানের পণ্য বাজারে আনতে যাচ্ছে। মুলত তারা পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া আর আফ্রিকার দেশগুলোকে তাদের পণ্য বিক্রি জন্য বাজার হিসাবে ঠিক করেছে। বাজারে তাদের যে সুপরিচিত চুলের পরিচর্যার জিনিস, ত্বক পরিচর্যার আর সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবার পণ্যগুলো রয়েছে তাকে আরও উন্নত করে রপ্তানি বাড়াতে চাইছে।
২০২২ সালের ২ অগাস্ট থেকে কলকাতার শতবর্ষ অতিক্রান্ত ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পর থেকেই ইমামি কোম্পানির ব্যবসায়িক লাভ নিয়মিত বড়েই চলেছে। ২০২২ -২৩ সালে তাদের নিট মুনাফা ছিল ৫৭৩ কোটি টাকা আর ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৯৩ কোটি টাকা। আর এই অর্থবর্ষে মানে ২০২৪-২৫ সালে তাদের নিট লাভ ২৩.৯% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৯ কোটি টাকা।
সত্যি বলতে কী, এখন অবধি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ইমামির নাম সম্বলিত জার্সি পরে প্রায় ১৪৯টার মত ম্যাচ খেলে ফেলেছে। তার ফলে খুব কম হলেও ১৩০০ মিনিট তাদের কোম্পানির নাম হয় টি ভি বা অ্যাপে প্রচারিত জন মাধ্যমে উঠে এসেছে। তার ফলে ইমামির প্রচার খুব কম হলেও কয়েক কোটি লোকের কাছে পৌঁছে গেছে। তার সঙ্গে আছে মাঠে বসে খেলা দেখা কয়েক লক্ষ মানুষ। এই প্রচার যে মানুষকে ইমামির তৈরি জিনিসগুলোকে আরও বেশী করে পরিচিত করেছে এটা মনে করা যেতেই পারে। আর তাদের প্রোডাক্টের বর্ধিত চাহিদাই হয়ত তাদের অনুপ্রাণিত করেছে বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়াবার প্রয়াসে। ইমামি তাদের সভায় আশা প্রকাশ করেছে যে তাদের আয়ের ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ এরপর থেকে আসবে বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে। তার জন্য তারা “পাওয়ার
ব্র্যান্ড” একটি নতুন উন্নত মানের কিছু পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য তৈরি করেছে।
এই যে “ইমামি”র মত কোম্পানি, কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবার পর তাদের উত্তর উত্তর অর্থনৈতিক উন্নতি হল, এটা কি এই ধরনের কর্পোরেট সংস্থাগুলকে উদ্ধুদ্ধ করতে পারে না ? তাহলে ভারতীয় ফুটবের অন্তত উন্নতি হতো। সেই সঙ্গে এই উন্নতির পিছনে যে অংশীদারিত্ব, তা বহুমাত্রিকতা পেতো। ভারতীয় ফুটবলে যে একটি কোম্পানির “রাজত্ব” চলেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে স্পনসরশীপে প্রসারত্ব বাড়তো।
অন্য দিকে ২০২২ সালের ২ অগাস্ট গ্র্যান্ড হোটেলে আমন্ত্রিত মানুষদের ইলিশ উপহার দিয়ে “ইমামি” যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, আশা করা যায় এবার তার পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে ভারতীয় ফুটবল মাঠে। হ্যাঁ তাতে যে ইমামির প্রোডাক্টগুলো আরও যে জনপ্রিয় হবে তা তো বলাই বাহুল্য।
