ওঙ্কার ডেস্ক: দুপুরের আকাশপথে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়ায় কলকাতা বিমানবন্দরে। কাঠমান্ডু থেকে ইস্তাম্বুলগামী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানের ডান দিকের ইঞ্জিনে আগুন লাগার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই পাইলট সতর্কবার্তা জারি করেন এবং নিকটবর্তী নিরাপদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানের ভেতরে তখন প্রায় আড়াইশোর কাছাকাছি যাত্রী ও ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ ও ধোঁয়া দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাইলট ও কেবিন ক্রুরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দিয়ে বিমানটিকে বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় ছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। রানওয়ের পাশে দমকল, চিকিৎসক দল ও উদ্ধারকারী বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সকলেই। ধীরে ধীরে যাত্রীদের বিমান থেকে নামানো হয় এবং তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কোনও যাত্রী বা ক্রু সদস্যের আঘাতের খবর মেলেনি।
অবতরণের পর বিমানটিকে আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ইঞ্জিনে কী কারণে ত্রুটি দেখা দিল বা আগুনের আশঙ্কা তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পাইলট ও বিমানকর্মীদের তৎপরতা বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচলেও সামান্য প্রভাব পড়ে, তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
