নিজস্ব প্রতিনিধি , মুর্শিদাবাদ: বিনা অনুমতিতে গভীর রাতে কলেজ চত্বরে প্রবেশের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন জিয়াগঞ্জের রাণী ধন্যকুমারী কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। তাঁর অভিযোগের তির দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিং ও বলিউড অভিনেতা-পরিচালক আমির খানের দিকে। অভিযোগের সমর্থনে রাতের সিসিটিভি ফুটেজ-সহ সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করেন তিনি। যদিও অজ্ঞাত কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য হন অধ্যক্ষ।
এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত সোমবার ,২ ফেব্রুয়ারি বলিউড তারকা আমির খান জিয়াগঞ্জে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে আসেন এবং সেখানেই রাত্রিবাস করেন। পরদিন তিনি বহরমপুরের একটি হোটেলে থাকেন। তবে সোমবার গভীর রাতে আমির খান অরিজিৎ সিংয়ের স্কুটারের পিছনে বসে জিয়াগঞ্জের রাণী ধন্যকুমারী কলেজে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ।
অধ্যক্ষ অজয় অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, সিসিটিভির প্রথম ভিডিওটি ৩৫ সেকেন্ডের, যেখানে দেখা যাচ্ছে ৪/২/২৬ তারিখ রাত ১টা ৫ মিনিট নাগাদ প্রায় কুড়ি জন ব্যক্তি দশটির বেশি মোটরবাইক নিয়ে কলেজ চত্বরে ঢুকছেন। দ্বিতীয় ভিডিওটি ২৬ সেকেন্ডের, যেখানে তাঁদের কলেজের ইন্ডোর গেমস হলের বাইরে বাইক থেকে নামতে দেখা যায়।
অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট তাঁরা কলেজ চত্বরে অবস্থান করেন। ব্যাডমিন্টন খেলা, শুটিং ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য কলেজের পরিকাঠামো ব্যবহার করা হয়। রাত ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ তাঁরা কলেজ ত্যাগ করেন। অধ্যক্ষের পোস্টে দাবি করা হয়, ওই দলে দুইজন দেশবিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন—একজন অরিজিৎ সিং এবং অপরজন আমির খান।
অজয় অধিকারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, দুই শিল্পীই তাঁর ব্যক্তিগতভাবে প্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন তোলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও রকম অনুমতি বা পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই কীভাবে গভীর রাতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করা হল? তাঁর অভিযোগ, কলেজ কোনও সামাজিক বা ব্যক্তিগত বিনোদনের জায়গা নয়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কলেজের পরিকাঠামো ব্যবহারের জন্য প্রশাসনিক অনুমতি প্রয়োজন। অথচ তা না নিয়েই কলেজ চত্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অধ্যক্ষের প্রশ্ন, “বিখ্যাত মানুষ হলেই কি সব নিয়ম ভাঙা যায়? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞার বিষয়?”
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক রং নিতে শুরু করেছে গোটা বিষয়টি। বিরোধী মহলের দাবি, শাসকদলের প্রশ্রয়ে ‘তারকা সংস্কৃতি’ আজ আইনের ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারেও কোনও নিয়ম মানা হচ্ছে না। আবার শাসক শিবিরের একাংশের মতে, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, অধ্যক্ষ নিজেই তাঁর পোস্ট ও ভিডিও ডিলিট করে ফেলেছেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—
চাপের মুখে কি পোস্ট সরানো হল? নাকি প্রশাসনিক স্তর থেকে কোনও বার্তা পৌঁছেছিল?
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আবার কেউ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত রাজনীতি করা হচ্ছে।
যদিও ওঙ্কার বাংলা এখনও পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
তারকা বনাম সরকারি প্রতিষ্ঠান, এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার। কারণ প্রশ্ন একটাই, আইন কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য? নাকি তারকাদের জন্য আলাদা নিয়ম?
