ওঙ্কার ডেস্ক: একটি ঘটনার নিরিখে সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। কলকাতার পরিচিত মুখ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে চেনেন ‘ননসেন’ নামে, শমীক অধিকারীকে ঘিরে শহর জুরে হইচই কাণ্ড। বেহালা থানায় দায়ের হওয়া তরুণীর অভিযোগে এক রাতের মধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহর জুড়ে। যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাকে নেওয়া হয়েছে জেল হেফাজতে। আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে এই মামলা তদন্তাধীন।
উল্লেখ্য, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগ, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও তিনি জানান, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর এবং সারা রাত ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর শমীক ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শমীক অধিকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই, গোটা ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে শমীকের পরিবার। অভিযোগগুলিকে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁরা জানান, ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের পরিচিত। তিনি ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, বাড়িতে আসা যাওয়া ছিল। ঘটনার দিন মেয়েটি নিমন্ত্রণে পেয়ে তাঁদের বাড়ি এসেছিল। আলাদা ঘরে কথা বলার সময় দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। ভুল বোঝাবুঝি থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় তাঁর ছেলে একটি চড় মেরেছিল যা ভুল।
যদিও এই ঘটনা পুরোপুরি তদন্তাধীন। সত্যি সামনে আসতে বেশ সময় লাগবে। আপাতত ১০ দিনের জেল হেফাজত, এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াঅ দুই পক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একশ্রেণি ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে, আবার কেউ কেউ রাজনীতির প্রসঙ্গও তেনেছেন। এই ঘটনার রেশ কোন দিকে যাবে তার উত্তর দেবে সময়।