ওঙ্কার ডেস্ক: টলিউডে তাঁর বেশ কয়েকটি পরিচয়, কিন্তু সেসবের বাইরেও তাঁর নিজের পরিচয় রয়েছে, তিনি শিল্পী-তিনি অভিনেত্রী। কথা হচ্ছে টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে নিয়ে। তিনি যখনই পর্দায় আসেন, দর্শকের ভালবাসা ও প্রশংসা পেয়ে থাকেন। চলতি বছর বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে নতুন রূপে পেয়েছেন রাজ্যবাসী। যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। সম্প্রতি তাঁর বিদেশ যাত্রা নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা, সমাজ তথা সংবাদমাধ্যমে তাঁর সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। রাজনীতির অন্দরে পা রেখেই বলেছিলেন, “দেশের সেবা, মানুষের সেবা করার চেয়ে মহৎ কাজ আর হয় না।” কিন্তু তার মধ্যেই খবর ছড়িয়েছে আচমকাই ইমেল মারফত নাকি ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন রঞ্জিত-কন্যা।
ঠিক যখন টলিউড থেকে নবান্ন সর্বত্র এই ‘পদত্যাগ’ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই অন্য মেজাজে ধরা দিয়েছেলন অভিনেত্রী। দেশ জুড়ে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন তুমুল চর্চা, কোয়েল তখন সপরিবারে মার্কিন মুলুকে ব্যস্ত পারিবারিক মুহূর্ত উদযাপনে। শহর ছাড়ার সময় বিমান থেকেই একটি রহস্যময় অথচ মিষ্টি স্টোরি পোস্ট করেছিলেন কোয়েল। তাতেই নেটিজেনরা আন্দাজ করেন, বোধহয় রাজনীতির এই চর্চা থেকে নিজেকে একটু দূরে রাখতে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে ছুটি কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী। সঙ্গে ছিলেন বাবা রঞ্জিত মল্লিক ও মা দীপা মল্লিক। কিন্তু এবার সেই জল্পনা উড়িয়ে কোয়েল নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলসা করলেন আসল সত্যিটা। আমেরিকা সফরের আসল উদ্দেশ্য ছিল কোয়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘দাদা’ তথা খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত সেতারবাদক ইন্দ্র রায়চৌধুরী এবং কুহুকী কুমারী দাসের বিবাহ অনুষ্ঠান। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন কোয়েল লিখেছেন “আমাদের আমেরিকা সফরের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল দাদার বিয়েতে যোগ দেওয়া। কী যে দারুণ সময় কাটালাম! নবদম্পতিকে জানাই অনেক শুভেচ্ছা।”
বাংলার রাজনৈতিক মহল কিন্তু এখনও এই ধোঁয়াশাতেই ডুবে রয়েছেন। আপাতত এখন সকলের নজর বিমানবন্দরের দিকে। বিদেশের মাটিতে বিয়ের উৎসব শেষ সেরে অভিনেত্রী যখন কলকাতায় পা রাখবেন, তখন কি এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে তিনি মুখ খুলবেন? হাজারও প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছেন নায়িকা নাকি শেষ পর্যন্ত এই গুঞ্জনে নিজেই দেবেন শিলমোহর? অপেক্ষায় সময়ের।