ওঙ্কার ডেস্ক: ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20) নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই সমালোচকদের কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি। তাঁর দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে কোনও গাড়ির ক্ষতি হয়েছে এমন একটি নির্দিষ্ট উদাহরণও এখনও পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেননি। যদি সত্যিই এমন কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট গাড়ির ডিলারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি তাঁকেও জানাতে বলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সম্প্রতি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একাংশের গাড়ি ব্যবহারকারীর দাবি, এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়ির কর্মক্ষমতা কমছে, মাইলেজে প্রভাব পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে কেন্দ্রের দাবি, এই অভিযোগগুলির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বৈজ্ঞানিক বা বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।
নীতিন গডকরি বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরে দেশে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ গাড়ি এই জ্বালানিতে চলছে। কিন্তু কোনও গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার প্রমাণ এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি নয়, নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এ ধরনের অভিযোগ বিচার করা উচিত।
কেন্দ্রের মতে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হল অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা, পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা এবং আখ-সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়িয়ে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করা। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। এদিকে, গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির একাংশও জানিয়েছে যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ইথানলের শক্তিমান তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে মাইলেজ সামান্য কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।