চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তরটিকে কর্নিয়া বলা হয়। আলো চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করার পাশাপাশি দৃষ্টিকে পরিষ্কার রাখতেও কর্নিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কর্নিয়ায় সংক্রমণ, আঘাত, শুষ্কতা, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে চোখে অস্বস্তি ও দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ কী?
কর্নিয়ার সমস্যায় চোখ লাল হওয়া, জ্বালা বা ব্যথা, অতিরিক্ত জল পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং চোখে কিছু পড়েছে এমন অনুভূতি হতে পারে। দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, চোখের সামনে দাগ বা কুয়াশার মতো দেখা এবং চোখের পাতা খুলতে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চোখে আঘাতের পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
কীভাবে সাময়িক উপশম পাওয়া যায়?
চোখে অস্বস্তি হলে প্রথমেই চোখ ঘষা বন্ধ করুন। পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিতে পারেন, বিশেষ করে ধুলো বা কোনো ক্ষুদ্র কণা ঢোকার সন্দেহ থাকলে। স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম চোখের শুষ্কতা ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শুষ্ক চোখের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং বা কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে অস্বস্তি বা লালভাব দেখা দেওয়ার সময় লেন্স খুলে রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করবেন না। অন্যের ব্যবহৃত চোখের ড্রপ বা নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক/স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চোখে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত আলো-সংবেদনশীলতা, কর্নিয়ায় সাদা দাগ, পুঁজ বা আঘাতের পর দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রাসায়নিক পদার্থ চোখে ঢুকলে অপেক্ষা না করে প্রচুর পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে জরুরি চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন, কর্নিয়ার সমস্যার কারণ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। তাই শুধু উপসর্গ কমানোর চেষ্টা না করে প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।