প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসলেন তাঁর আইনজীবী। সূত্রের খবর, মমতার আইনজীবী অর্ক নাগ আজ, সোমবার সকালে SSKM হাসপাতালের অধিকর্তা ডাঃ মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, MSVP ডাঃ পীযূষ কুমার রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ অতনু বিশ্বাসকে দু’পাতার আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।
আইনজীবীর অভিযোগ, যে মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে দেখানো হয়েছে। রিপোর্ট জনসমক্ষে আনার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই নোটিসে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তাঁর মক্কেলের সম্মতি ছাড়া বা আইনি পদ্ধতি না মেনে যদি এই গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে মমতার পায়ে চোট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে সমস্ত নথি রয়েছে। এর পরদিন, শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই নথি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকাশিত একটি নথিতে লেখা ছিল, ‘কোনও ফ্র্যাকচারের চিহ্ন মেলেনি’।
মুখ্যমন্ত্রীর এই নথি প্রকাশের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরব হন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “কোনও চিকিৎসক বা হাসপাতালের পক্ষে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে আনা কখনওই কাম্য নয়, সরকারের উচিত সেটা মনে রাখা।” কুণালের এই পোস্টের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিন চিকিৎসককে নোটিস পাঠালেন মমতার আইনজীবী।
আইনি চিঠিতে অর্ক নাগের বক্তব্য, “জানার অধিকার আছে মানেই কারও ব্যক্তিগত ও গোপনীয় চিকিৎসার নথি জনসমক্ষে আনার লাইসেন্স পাওয়া যায় না।” তিনি চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও ফাইল কি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছিল? পাঠানো হয়ে থাকলে, তার জন্য কোনও আইনানুগ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা আর লঙ্ঘিত না হয় এবং কোনও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করা হয়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে নোটিসে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে আসা হয় কলকাতার SSKM হাসপাতালে। তখনও SSKM-এর অধিকর্তা পদে ছিলেন ডাঃ মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাঙুর ইনস্টিটিউটে নিয়ে গিয়ে MRI করানো হয়। পরে ফের SSKM-এ ফিরিয়ে এনে মেডিক্যাল বুলেটিনে অধিকর্তা জানিয়েছিলেন, মমতার বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট লেগেছে।