মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হচ্ছে। এই আবহেই গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে সৌরভ দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অভিজিৎ দিপকে-কে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করছে। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নিশানা করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “এমন বড় কোনও পদক্ষেপ নিলে তার ফল ভালো হবে না।”
পোস্টে সৌরভ লেখেন, সরকার যদি ভাবে গ্রেফতার করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। তরুণ প্রজন্ম এখন নিজেদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। গ্রেফতার হলেও এই আন্দোলন থামবে না। তাঁর কথায়, তাঁরা মানসিকভাবে গ্রেফতারির জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেও তৈরি। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ হবে বড় ভুল। তাঁদের বক্তব্য, নেতারা জেলে গেলেও লড়াই থামবে না, সাধারণ মানুষ এবং তরুণদেরই নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় থাকতে হবে।
দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে সৌরভ বলেন, শুধু কয়েকজন নেতার উপর ভরসা না করে সবাইকে এই আন্দোলনে সামিল হতে হবে। পাশাপাশি আগামী ১০ অক্টোবর দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছেন তিনি।
সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ও দমনমূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছেন CJP নেতা। যদিও কেন্দ্র সত্যিই তাঁদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত খবর মেলেনি। তবে CJP-র স্পষ্ট বার্তা, জেলের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে। দিল্লিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান CJP নেতারা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বাম নেত্রী বৃন্দা কারাত, ঐশী ঘোষরা। মুম্বইতেও পথে নামেন উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে। জাতীয় পতাকা হাতে সংবিধান বাঁচানোর ডাক দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন ঠাকরে ভাইয়েরা।
অন্যদিকে শনিবার যন্তর মন্তরের সামনে ৩ মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিউ দিল্লি জেলা পুলিশ ওই তিন সাংবাদিকের অভিযোগ পেয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঘটনাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর-এর নামে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে আগে থেকেই চাপে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়, সহকর্মীদের আপত্তি সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমার নিজের সিদ্ধান্তে এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যকর করেছিলেন। যদিও বিতর্কের পর কমিশনের তরফে বৈঠক করে জানানো হয়, তিন কমিশনারের সম্মতিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন নজর ১০ অক্টোবরের মহা-আন্দোলনের দিকে। তার আগেই সৌরভ দাসদের গ্রেফতারির আশঙ্কা সত্যি হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।