নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ভিড়ে রাস্তার ধারের খাবার কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখতে শহরজুড়ে বিশেষ অভিযানে নামল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে হানা দিয়ে খারাপ পনির এবং মেয়াদ-উত্তীর্ণ গ্রেভি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করল পুরসভার বিশেষ টিম। উৎসবের আবহে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।
পুজোর সময় পার্ক স্ট্রিট মানেই খাবারের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। সেখানে ৭ নম্বর বরোর অন্তর্গত পার্ক স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট এবং মিডলটন স্ট্রিটে ‘মোবাইল ফুড সেফটি অন হুইলস’ গাড়ি নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। রাস্তার ধারের মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে রোল, চাউমিন, মোমো, বিরিয়ানি, চিকেন চাপ, চাইনিজ— সব ধরনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষা করা হয়। পার্ক স্ট্রিট ও মিডলটন স্ট্রিট এলাকায় মোট ২৭টি দোকান পরিদর্শন করে ৪০টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছে দপ্তর। এর মধ্যে প্রায় দু’কেজি পনির খারাপ পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তা নষ্ট করা হয়। এছাড়া বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় ঝোলজাতীয় খাবারে তৈরির তারিখের ট্যাগ ছিল না। প্রায় ২০ কেজি মেয়াদ-উত্তীর্ণ গ্রেভি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে। ষষ্ঠীর দিন দেশপ্রিয় পার্কের একাধিক রেস্তোরাঁতেও একইভাবে অভিযান চালানো হয়।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে এই অভিযান শুরু হয়েছে এবং তার সুফলও মিলছে। অধিকাংশ দোকানেই এখন ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (FSSAI) বৈধ লাইসেন্স প্রকাশ্য জায়গায় টাঙানো রয়েছে। প্যাকেটজাত খাবারে প্রয়োজনীয় লেবেল, লোগো ও লাইসেন্স নম্বর রয়েছে। খোলা মশলার বদলে বেশিরভাগ দোকানই ব্র্যান্ডেড কোম্পানির মশলা ব্যবহার করছে এবং খাবার তৈরি ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতাও বেড়েছে। তবে অভিযানের সময় খাবারে গোলমাল পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গেই নষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে দপ্তর।